গলাচিপা প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তরে অর্ধকোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্য
পটুয়াখালী বার্তা, পটুয়াখালী
তারিখ: ২০১৬-০৯-০১ | সময়: ০৯:২৮:৫৭
গলাচিপা প্রতিনিধি ॥ ’ঘুষ দিতে দিতে আমাদের দফারফা সারা‘। গলাচিপা প্রাথমিক শিক্ষা দফতরের ঘুষ দুর্নীতির এমন চিত্র বর্ণনা করলেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক। তারা বলেন আমরা যদি প্রকাশ্যে এ কথা বলি তা হলে আমাদের বদলি, সাময়িক বরখাস্তসহ নানা খড়গ নেমে আসবে।
সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগী সূত্র জানায়, শিক্ষকদের দেয়া তথ্য অনুসারে টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেডসহ নানাভাবে নিদেনপক্ষে অর্ধকোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্য হয়েছে গত কয়েকমাসে। এর সাথে ঢালাউভাবে জড়িত অফিস সহকারি নিধির রঞ্জন দাসের সরাসরি এ ঘুষ আদায়ের অভিযোগ থাকলেও তিনি তা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, আমি ছাড়া আমার উপরে অনেক কর্মকর্তা রয়েছেন। তবে তার হাত ছাড়া কোন ফাইল কর্মকর্তাদের টেবিলে পৌঁছে না। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক কর্মকর্তা আঃ ছত্তার জোমাদ্দার তার দফতরে ঘুষ বাণিজ্যের বিষয়টি সম্পর্কে বিস্ময় প্রকাশ করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে চলছে গলাচিপা প্রাথমিক শিক্ষা দফতরে ঘুষের ভর মৌসুম। সরকার চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেল প্রদান করায় ঘুষখোরদের হয়েছে পোয়াবারো। উপজেলার ১৭৩ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় কর্মরত ৮০০ শিক্ষকের পে-স্কেলের এরিয়া বিল করার জন্য প্রত্যেক শিক্ষকের কাছ থেকে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা আদায় করা হচ্ছে। অনেককে এবারই নয় একাধিকবারও টাকা ব্যয় করতে হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তী পোহাতে হয় নব্য সরকারি (সাবেক রেজিষ্ট্রার্ড) প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের। টাইম স্কেল সিলেকশনের জন্য ১২শ’ টাকা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলার বকুলবাড়িয়া ইউনিয়নের বাঁশবাড়িয়া এলাকার এক প্রধান শিক্ষক গলাচিপা হাফেজ হোটেলে রাতের খাবার খেতে আসলে এ বিষয়ে কথাচ্ছলে এ বিষয়ে আলাপ হয় এ প্রতিনিধির সাথে এক প্রধান শিক্ষকের কাছে। তিনি ও আর একজন শিক্ষক এ কাজে প্রথমে তার এক আত্মীয় শিক্ষকের মাধ্যমে আড়াই হাজার করে টাকা দেন ওই অফিসে কোন কাজ হয়ণি দ্বিতীয় দফায়ও দুইজনে মিলে ৬ হাজার টাকা খরচ করার পর জেলা শিক্ষা অফিসে ফাইল অনুমোদনের কথা বলে অফিস সহকারি নিধির রঞ্জন দাস আরও টাকা দাবি করেন। এটাকাও তাদের দিতে হবে বলে তিনি জানান। না হলে জেলা দফতরে তাদের ফাইলই পাঠানো হবে না বলে তিনি আশংকা করছেন। এছাড়াও ফাইল আটকাসহ নানাভাবে শিক্ষকদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হয়।
সূত্র জানায়, এ ব্যাপারে কয়েকজন উপজেলা সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা বাধ সাধলেও তাদের মতামত উপেক্ষা করে শিক্ষকদের কাছ থেকে দেদারসে আদায় করা হচ্ছে টাকা। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, জেলা শিক্ষা অফিসসহ অনেক কর্মকর্তাদের মধ্যে এ টাকা ভাগবাটেয়ারা হয়।



