নদী ভাঙনে দশমিনা লঞ্চঘাট বিলিন
পটুয়াখালী বার্তা, পটুয়াখালী
তারিখ: ২০১৬-০৭-২৪ | সময়: ০৯:২৯:২৭
দশমিনা প্রতিনিধি ॥ তেঁতুলিয়া ও বুড়াগৌরাঙ্গ নদীর ভাঙনে বিলীন হয়েছে পটুয়াখালীর দশমিনা লঞ্চঘাট। এই দুই নদীর ভয়াবহ ভাঙনে একই সঙ্গে হারিয়ে যেতে বসেছে বাঁশবাড়িয়া, দশমিনা, রনগোপালদী ও আলীপুরা ইউনিয়নের কয়েশ’ বসতঘরসহ বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠান, বেড়িবাঁধ, লঞ্চঘাট ও কয়েক হাজার একর ফসলি জমি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নদীর ভয়াবহ ভাঙনের মুখে বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের বাঁশবাড়িয়া, ঢনঢনিয়া, উপজেলা সদর ইউনিয়নের হাজিরহাট, গোলখালী, আরজবেগী, রনগোপালদী ইউনিয়নের আউলিয়াপুর, পূর্ব-রনগোপালদী, দক্ষিন-রনগোপালদী, পশ্চিম-রনগোপালদী গ্রামের কয়েকশ’ পরিবারের বসতঘর। অন্য সময়ের চেয়ে ভর বর্ষায় তীব্র হয়েছে নদীর ভাঙন। স্থানীয়রা জানান, অল্প কয়েকদিন আগে হাজিরহাট এবং বাঁশবাড়িয়া লঞ্চঘাট দুটি বিলীন হয়েছে নদী গর্ভে।
একই সঙ্গে হারিয়ে গেছে, বেঁড়ি বাঁধের ৫ কিলোমিটার। দিন দিন তীব্র আকার ধারণ করেছে ভাঙন। এসব এলাকার নদী পাড়ের বাসিন্দারা অসহায় হয়ে অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন বসতঘর। ভাঙন কবলিত বাঁশবাড়িয়া, ঢনঢনিয়া, হাজিরহাট, গোলখালী, আরজবেগী, রনগোপালদী, আউলিয়াপুর ও আলীপুরা গ্রামের সিংহভাগ চিরতরে হারিয়ে গেছে। শত শত পরিবার মাথা গোঁজার ঠাঁই খুঁজতে বাধ্য হয়ে চলে গেছে অন্যত্র। অসহায় পরিবারগুলোর কেউ কেউ আশ্রয় নিয়েছেন বেঁড়িবাঁধের পাশে, খাসজমিতে ও বিভিন্ন চর এলাকায়। বাঁশবাড়িয়া এলাকার ষাটোর্ধ আব্দুর রহিম সরদার বলেন, ‘দুই সপ্তায় বাঁশবাইড়্যা (বাঁশবাড়িয়া) ও আজিরআট (হাজিরহাট) লঞ্চঘাটের ভাঙন বাইড়গ্যা গ্যাছে। দইরগ্যার ভাঙনে যহন-তহন বড় রোকমের অঘটন ঘইটক্যা জাইতে পারে। হেইয়ার লইগ্যা দইরগ্যার পাড়ের মাইনষের রাইত-বিরাইতেও ঘুম হারাম অইয়া গ্যাছে।’
একই এলাকার করিম মাঝি জানান, বাঁশবাড়িয়া ও হাজিরহাট লঞ্চঘাট দুটি তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙন থেকে রক্ষা করতে বাঁশের অস্থায়ী পাইলিং দিয়েও রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। নদীর তীর ঘেসে থাকা বেঁড়িবাধের বাকি অংশও এখন হুমকির মুখে। বেঁড়িবাঁধের ভাঙন দিয়ে অনায়াসে নোনাপানি প্রবেশ করার কারণে হুমকীর মুখে পড়েছে চলতি মৌসুমের আমন ক্ষেত। নদী ভাঙন সম্পর্কে পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা-গলাচিপা) আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী আ.খ.ম জাহাঙ্গীর হোসাইন বলেন, ‘নদীর ভাঙন রোধকল্পে তীরবর্তী এলাকায় জরুরিীভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’



