সংযুক্ত আরব আমিরাত মানবিক সহায়তার পরিবর্তে সুদানকে অস্ত্র সরবরাহ করছে বলে জানা গেছে। এতে দেশটির মধ্যে সংঘাতের ধারাবাহিকতা আরো বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল (ডাব্লিউএসজে) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, একটি কার্গো বিমান এই বছরের জুনের শুরুতে উগান্ডার প্রধান এন্টেবে বিমানবন্দরে অবতরণ করেছিল। ফ্লাইটের নথিগুলো ইঙ্গিত করে, সুদানের সংঘাত থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের জন্য সহায়তা বহন করা ওই ফ্লাইটটি সংযুক্ত আরব আমিরাত পাঠিয়েছিল।
উগান্ডার কর্তৃপক্ষের উদ্ধৃতি দিয়ে ডাব্লিউএসজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারা যে খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তার আশা করেছিল, তার পরিবর্তে তারা বিমানের কার্গোতে কয়েক ডজন ক্রেট আবিষ্কার করেছেন, যাতে হামলার অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য ছোট অস্ত্র ছিল।
প্রতিবেদনে বেনামী আফ্রিকান ও মধ্যপ্রাচ্য সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, ওই ফ্লাইটে পাওয়া অস্ত্রগুলো সুদানের আধাসামরিক র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) নেতৃত্বদানকারী মোহাম্মদ হামদান দাগালোকে সমর্থন করার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি ষড়যন্ত্রের অংশ ছিল। দাগালোর বাহিনী ১৫ এপ্রিল থেকে সুদানের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে দেশটির নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার জন্য লড়াই করছে।
উগান্ডার কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, অস্ত্রের মজুদ পাওয়া সত্ত্বেও আমিরাতি বিমানটিকে চাদের পূর্বাঞ্চলীয় আমদজারাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
সেখানে কার্গোটি সীমান্তের ওপর দিয়ে সুদানে ও আরএসএফের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
বিষয়টি আপাতদৃষ্টিতে একটি আফ্রিকান সূত্র ও একজন সাবেক মার্কিন কর্মকর্তার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছিল, যিনি ডাব্লিউএসজেকে বলেছেন, আমিরাতি সামরিক সরবরাহ বহনকারী ট্রাকগুলো জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে আমদজারাস বিমানবন্দর থেকে সুদানের আল-জারক অঞ্চলের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়, যা উত্তর দারফুরের একটি আরএসএফের শক্ত ঘাঁটি।
এই ধরনের চালানকে কেবল বাধা ছাড়াই যেতে দেওয়া হয়নি, উগান্ডার উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসা ফ্লাইটে তল্লাশি বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানা গেছে। এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এই বিমানগুলো আমাদের আর পরিদর্শন করার অনুমতি দেওয়া হয় না।
এগুলো এখন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়েরর দায়িত্ব। কোনো ছবি না তোলার জন্যও আমাদের সতর্ক করা হয়েছে।’
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রতিবেদনটি প্রকাশের প্রতিক্রিয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাত শুধু বলেছে, তারা সুদানের সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানকে সমর্থন করে এবং ‘মানবিক দুর্ভোগ প্রশমনে সব ধরনের সহায়তা প্রদান করতে চায়’। এই ধরনের মানবিক সহায়তার মধ্যে একটি ফিল্ড হাসপাতাল রয়েছে, যা প্রতিবেশী চাদে তৈরি করা হয়েছে। সেখানে উদ্বাস্তু ও সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রায় দুই হাজার মেট্রিক টন মানবিক পণ্যের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যেমনটি ওই ফ্লাইটে ছিল।
প্রতিবেদনে একজন আরএসএফ কর্মকর্তাকেও জোর দিয়ে উদ্ধৃত করা হয়েছে, দলটি সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে অস্ত্র বা অন্যান্য সামরিক সরবরাহ পায় না এবং তাদের যোদ্ধারা মানবাধিকার লঙ্ঘনে জড়িত নয়।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রতিবেদনটি সুদানের সংঘাতে আরএসএফের সঙ্গে উপসাগরীয় দেশটির সম্পৃক্ততা নিয়ে সর্বশেষ উদঘাটন। সুদানের লড়াইয়ে এখনো পর্যন্ত প্রায় চার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে এবং লক্ষাধিক মানুষ দেশের অভ্যন্তরে ও সীমান্তের বাইরে বাস্তুচ্যুত হয়েছে।