May 27, 2024, 6:54 am
শিরোনাম :
পটুয়াখালীর উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় “রেমাল” এর অগ্রভাগ দলীয় শৃঙ্খলা লঙ্ঘন, পটুয়াখালী সদর উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতিকে কারন দর্শানোর নোটিশ জলোচ্ছাসে প্লাবিত হতে পারে পটুয়াখালীর উপকূলীয় অঞ্চল, ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত নিম্নচাপের প্রভাবে পটুয়াখালীতে বৃষ্টি, তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত পায়রা বন্দর থেকে ৪৯০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে গভীর নিম্নচাপটি ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় রেমাল, আঘাত হানবে বাংলাদেশ ও ভারতে আচরন বিধি লঙ্ঘন, দুমকিতে চেয়ারম্যান প্রার্থী হারুন অর রশিদ হাওলাদারকে শোকজ বাউফলে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শিক্ষার্থীর মৃত্যু দুমকিতে মোশাররফ হত্যায় জড়িত আসামিদের ফাঁসির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন ইউনিভার্সিটি অফ গ্লোবাল ভিলেজের শিক্ষার্থীদের পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিদর্শন

উপজেলা নির্বাচন: নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বিএনপি প্রার্থীর ছড়াছড়ি

সুনান বিন মাহাবুব, পটুয়াখালী অফিসঃ

উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করবে না বলে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, উপজেলা নির্বাচনে যদি বিএনপির কেউ অংশগ্রহণ করে তাহলে তাকে আজীবন বহিষ্কার করা হবে। বিএনপি নেতাদের এই কথাকে উপেক্ষা করে দলটির অন্তত পাঁচ শতাধিক স্থানীয় পর্যায়ের নেতা এখন উপজেলা নির্বাচনের জন্য মাঠে নেমেছে।

উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপির প্রার্থীরা এখন এলাকায় সরগরম করছেন। তারা ইফতার পার্টির আয়োজন করেছেন, জনসংযোগ শুরু করেছেন এবং নির্বাচনের জন্য আনুসঙ্গিক প্রস্তুতিও গ্রহণ করেছেন। বিএনপির স্থানীয় পর্যায়ে নেতারা বলছেন, দলের কেন্দ্রীয় নেতারা যদি তাদেরকে বহিষ্কার করে কিছু করার নেই। দরকার হলে তারা দল করবেন না। কিন্তু উপজেলা নির্বাচনে তাদেরকে অংশগ্রহণ করতেই হবে উপজেলা নির্বাচনে কেন বিএনপির স্থানীয় পর্যায়ে নেতারা অংশগ্রহণ করতে চান, এর কারণ হিসেবে তারা বলেছেন যে, নির্বাচন প্রতিরোধের ডাক দিয়ে নেতারা ঘুমিয়ে ছিলেন, তারা নির্বাচন প্রতিরোধ করতে পারেননি। জেল, জুলুম, মামলা, হামলা সব হচ্ছে আমাদের বিরুদ্ধে। এখন যদি আমরা নির্বাচনও না করি, তাহলে এলাকায় আমাদের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না। আমরা এলাকা থেকে নিঃশেষিত হয়ে যাব। জনগণ চায় তাদের সঙ্গে আমরা সম্পর্ক রাখি। এদিকে আন্দোলনও করা হচ্ছে না। আবার যদি নির্বাচনও না করা হয় তাহলে জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক থাকবে কীভাবে। কর্মীরা কীভাবে কাজ করবে এবং কর্মীদের মনোবল কীভাবে রক্ষা করা যাবে? এই প্রশ্নটি করছেন স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা যদিও বলেছেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে তাদেরকে বহিষ্কার করা হবে। কিন্তু এখন উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণের জোয়ার দেখে বিএনপির মধ্যেও নানারকম মেরুকরণ হচ্ছে।

বিএনপি নেতারা মনে করছেন, এটির ফলে স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপি খালি হয়ে যাবে। বিএনপির কোনো জনপ্রিয় নেতাই নির্বাচন থেকে দূরে থাকবেন না। শুধুমাত্র যারা জনপ্রিয়হীন পদলেহী এবং বিভিন্ন রকমের উপঢৌকন দিয়ে দলের নেতৃত্ব পেয়েছেন, সাধারণ মানুষের কাছে যাদের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই, তারাই নির্বাচন থেকে দূরে থাকতে পারেন। আর যাদের জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা আছে, জনপ্রিয়তা আছে তারা নির্বাচন থেকে দূরে থাকবে না। কারণ দীর্ঘ ১৭ বছরের বেশি সময় ধরে বিএনপি ক্ষমতার বাইরে। দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকার কারণে দলের অবস্থা যেমন শোচনীয় হয়েছে, তেমনি বেড়েছে জনবিচ্ছিন্নতা। আর এ কারণেই জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার জন্য নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই বলে বিএনপির মাঠ পর্যায়ের নেতারা মনে করছেন।  তাছাড়া তারা বলছেন, জনগণ আওয়ামী লীগের বিকল্প প্রার্থী চায়। এবার নির্বাচনে যেহেতু আওয়ামী লীগ দলীয় প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করছে না, সে কারণে এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা এবং জয়লাভ করা অনেক সহজ।

বিএনপির স্থানীয় নেতারা কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দদের কাছেও বলছেন যে, নির্বাচনের ব্যাপারে গোঁয়ার্তুমি থেকে যেন সরে আসে। রাজনীতিতে কোনো গোঁয়ার্তুমির জায়গা নেই। এর পরিণতি হবে বিএনপির জন্য ধ্বংস। এমনিতেই বিএনপি প্রায় বিলীন একটি রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে। সামনের দিনগুলোতে যদি এরকম ভুল রাজনীতি আঁকড়ে ধরে থাকে তাহলে বিএনপি আরো নিঃশেষিত হবে বলে তারা মনে করছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা