May 27, 2024, 6:43 am
শিরোনাম :
পটুয়াখালীর উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় “রেমাল” এর অগ্রভাগ দলীয় শৃঙ্খলা লঙ্ঘন, পটুয়াখালী সদর উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতিকে কারন দর্শানোর নোটিশ জলোচ্ছাসে প্লাবিত হতে পারে পটুয়াখালীর উপকূলীয় অঞ্চল, ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত নিম্নচাপের প্রভাবে পটুয়াখালীতে বৃষ্টি, তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত পায়রা বন্দর থেকে ৪৯০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে গভীর নিম্নচাপটি ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় রেমাল, আঘাত হানবে বাংলাদেশ ও ভারতে আচরন বিধি লঙ্ঘন, দুমকিতে চেয়ারম্যান প্রার্থী হারুন অর রশিদ হাওলাদারকে শোকজ বাউফলে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শিক্ষার্থীর মৃত্যু দুমকিতে মোশাররফ হত্যায় জড়িত আসামিদের ফাঁসির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন ইউনিভার্সিটি অফ গ্লোবাল ভিলেজের শিক্ষার্থীদের পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিদর্শন

ভুল রাজনীতির কারণে মুমূর্ষু অবস্থায় পড়েছে বিএনপি

সুনান বিন মাহাবুব, পটুয়াখালী অফিসঃ

তারেক রহমানের ভুল রাজনীতির কারণে আবার মুমূর্ষু অবস্থায় পড়েছে দীর্ঘ ১৭ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি। নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করা, নির্বাচন বর্জনের ডাক দেওয়া, নির্বাচনের আগে অসহযোগ আন্দোলন এবং কেন্দ্রীয়ভাবে এ ধরনের বাস্তবতা বিবর্জিত রাজনৈতিক কর্মসূচি বিএনপিকে ডোবাচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বিএনপির নেতারাই এখন বলছেন, তারা দিক নির্দেশনাহীন। কী করবেন তারা ভেবে পাচ্ছেন না। সামনের দিনে বিএনপির কর্মসূচি কী হবে সে সম্পর্কেও দলটির নেতাদের কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা নেই। ফলে তারেকের ডামি নেতৃত্বে বিএনপি এখন আবার অন্ধকার টানেলে প্রবেশ করেছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর আওয়ামী লীগে যোগ দেন। এই জ্যেষ্ঠ নেতা দলটিতে যোগ দিয়েই জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝালকাঠি-১ আসন থেকে জয় লাভ করেন। শাহজাহান ওমর বিএনপি ছাড়ার পর এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলের অন্য নেতাদের সঙ্গে চলা সম্ভব না হওয়ায় দলটির রাজনীতি ছেড়ে দিয়েছি।

তিনি বলেন, জিয়ার রাজনীতি থেকে বঙ্গবন্ধুর রাজনীতি আরো উন্নত। জিয়ার রাজনীতি ছেড়ে বঙ্গবন্ধুর রাজনীতিতে আসাকে আমি প্রমোশন মনে করি। এদিকে বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামানও স্বতন্ত্র নির্বাচন করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসন থেকে সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়েছে। স্বতন্ত্র নির্বাচন করায় তাকেও দল থেকে বহিষ্কার করে বিএনপি।

১০ ট্রাক অস্ত্র মামলা, নাইকো দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত তারেক রহমান ২০০৮ সালে রাজনীতি না করার মুচলেকা দিয়ে দেশ ছাড়েন। দুর্নীতির পাশাপাশি জঙ্গিদের পক্ষে অর্থায়নের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। গত ১৬ বছর ধরে লন্ডনে অবস্থান করছেন তারেক। সেখান থেকেই ২০১৩ সালে যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষ নিয়ে তিনি দেশে জ্বালাও পোড়াওয়ের রাজনীতি শুরু করেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে না এসে জ্বালাও পোড়াওয়ের রাজনীতি অব্যাহত রাখে বিএনপি, যা ২০১৫ সাল পর্যন্ত চলতে থাকে। এমন রাজনীতির মাধ্যমে বিএনপি একটি জনবিচ্ছিন্ন দলে পরিণত হয়।

২০১৮ সালেও তারেক ভোট না করে মনোনয়ন বাণিজ্যে মনযোগী হন। অভিযোগ রয়েছে, নির্বাচনের আগে মনোনয়ন বাণিজ্য করে মোটা অংকের টাকা বাগিয়ে নেন তারেক রহমান। আর এ কারণে দলকে বার বার সমস্যায় পড়তে হয়।

বিএনপির একাধিক নেতা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের নির্বাচনেও মনোনয়নে বাণিজ্য করেছিলেন তারেক জিয়া। যদিও স্থায়ী কমিটির সদস্যদের নেতৃত্বে একটি মনোনয়ন বোর্ড গঠিত হয়েছিল, সেই বোর্ডের ক্ষমতা ছিল খুবই সামান্য। তারা শুধু লন্ডন থেকে প্রেরিত নামগুলো ঘোষণা করেছিলেন। আর এই মনোনয়ন নিয়ে দলে ভয়াবহ কাণ্ড ঘটে। বিএনপির অন্তত ১৭৩টি আসনে দুই থেকে তিন জন করে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল,পরবর্তীতে যা বিএনপির মধ্যেই গৃহদাহ তৈরি করে। ফলে নির্বাচনে ভরাডুবি হয় বিএনপির। এভাবেই ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির পরাজয়ের বড় কারণ হয়েছিল তারেক রহমানের মনোনয়ন বাণিজ্য।

জানা গেছে, ঐ সময় এক হাজার কোটি টাকা বাণিজ্যের টার্গেট নিয়ে মাঠে নামেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া। ঐ সময় ৫০টি আসন দলের সিনিয়র নেতাদের জন্য তুলে রেখে বাকি ২৫০টি আসন নিলামে তুলেছেন তারেক জিয়া। আর এ অদূরদর্শী রাজনীতির কারণে বিএনপির ভরাডুবি হয়।

এবারের নির্বাচনের আগে ২৮ অক্টোবর বিএনপি তার রাজনীতির প্রথম ভুল পথ বেছে নেয়া শুরু করে। ঐদিন শান্তিপূর্ণ সমাবেশে তারেক জিয়ার নির্দেশে কিছু সংখ্যক বিশৃঙ্খল ক্যাডার পরিকল্পিত সন্ত্রাস এবং নাশকতা শুরু করে। তারা প্রধান বিচারপতির কার্যালয়ে হামলা করে, হাসপাতালে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটায় এবং একজন পুলিশ কনস্টেবলকে বেধড়ক পিটিয়ে হত্যা করে। এরপর সারাদেশে শুরু হয় বিএনপির সদস্য তাণ্ডব। ২৮ অক্টোবর থেকে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত সারাদেশে বিএনপির শতাধিক গাড়ি অগ্নিসংযোগ করে, ভাঙচুর করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এমনকি দুই দফায় ট্রেনে আগুন দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটিয়েছে। এই সমস্ত ঘটনাগুলোর সঙ্গে যে বিএনপি জড়িত তা এরইমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। এর ফলে বিএনপির ত্রিমুখী সংকট দেখা দেয়।

জানা গেছে, বিএনপির সব সিদ্ধান্ত অনেকটা এককভাবেই গ্রহণ করেন তারেক রহমান। নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের একটি নির্দিষ্ট কূটনৈতিক মিশনের সঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটি সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নিয়মিত মিটিংয়ের মাধ্যমে মূলত তারেক রহমান এই যোগাযোগ চালিয়ে গেছে। বিএনপির বেশ কিছু সূত্র মতে এই কূটনৈতিক মিশনের প্রধানের পরামর্শেই এবার নির্বাচনে যায়নি বিএনপি। কিন্তু যে আশায় বিএনপি নির্বাচনে যায়নি তা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে এই কূটনৈতিক মিশন। ফলে উভয় সংকটে রয়েছে দলটি। ( তথ্য সুত্র: ডেইলি বাংলাদেশ)


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা