মির্জাগঞ্জে ব্রিজ নির্মাণের ৪ বছরেও এপ্রোচ সড়ক নির্মাণের কাজ শেষ হয়নি
পটুয়াখালী বার্তা, পটুয়াখালী
তারিখ: ২০১৭-০২-০৪ | সময়: ০৭:২৪:২৪
উত্তম গোলদার ॥ পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের চত্রা আমতলা খালের উপর নির্মিত গার্ডার ব্রিজটির দু’পাশে এপ্রোচ সড়ক না থাকায় কোন কাজে আসছেনা। ফলে নির্মাণের ৪ বছর অতিবাহিত হলেও দশ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগের যেন শেষ নেই। শুস্ক মৌসুমে খালে পানি থাকায় ওই এলাকার লোকজন চলাচল করতে পারলেও বর্ষা মৌসুমে পারাপার হতে হয় নৌকা বা কলাগাছের ভেলায় করে। কিন্তু রাস্তা ও ব্রিজ নির্মাণ হলেও সংযোগ সড়কের অভাবে গ্রামবাসীদের কোন উপকারে আসছে না এ ব্রিজটি। দেউলী সুবিদখালী ইউনিয়নের চত্রা খালেও ওপর ব্রিজের সংযোগের অভাবে ওই এলাকার ৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীরা বিদ্যালয়ের যেতে হিমসিম খেতে হচ্ছে। এদিকে যান-বাহন চলাচল করতে না পারা এবং উপজেলা সদরের সাথে পথচারীদের চলাচল করতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। উপজেলা প্রকৌশলী অফিস সূত্রে জানা যায়, মির্জাগঞ্জের দেউলী সুবিদখালী ইউনিয়নের চত্রা আমতলা খালের ওপর গার্ডার ব্রীজ নির্মানের জন্য ২০১১ সালে দরপত্র আহবান করে এলজিইডি বিভাগ। এরপরে বরিশালের সুমি এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠান ৭৯ লক্ষ ২৪ হাজার ১৫৮ টাকা ব্যয়ে ৫৫ ফুট দৈর্ঘ্যর ওই গার্ডার ব্রীজটি ২০১২ সালে নির্মাণ কাজ শুরু করে। ব্রীজেরর কাজ সম্পন্ন হলেও ব্রিজের দুই পাশের সংযোগ সড়কের মাটি ভরাট না করে ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে চলে যায়। সরেজমিনে দেখা যায়, ব্রীজটির দু’ পার্শ্বে মাটি ভরাট করলেই পাকা রাস্তার সাথে ব্রিজের সংযোগ হয়ে যায়। কিন্তু ব্রিজের সাথে এপ্রোচ সড়কসংযোগ না দিয়েই কিছু অসাধু কর্মকর্তার কারণে ঠিকাদার বিল উত্তোলন করে নিয়ে যায়। ফলে চার বছর পরও ব্রিজটির সংযোগ সড়ক দেওয়া সম্ভব হয়নি। লোকজন মালামাল বোঝাই বিভিন্ন যান বাহন এনে ব্রীজের এক প্রান্তে মালামাল নামিয়ে মাথায় করে অন্য প্রান্তে নিয়ে আবারও গাড়ি বোঝাই করে নিয়ে যেতে হচ্ছে। যদি সংযোগ সড়কটি নির্মান করা হয় তাহলে এ এলাকার কৃষিক্ষেত্রে উন্নয়নের পাশাপাশি এ অঞ্চলের সকল ক্ষেত্রে উন্নয়ন হবে। ব্রীজটির দ্বায়িত্বে নিয়োজিত উত্তর রানীপুর গ্রামের মোঃ চান খাঁ বলেন, এ ব্রিজটির দেখাশুনা দায়িত্বে থাকলেও অনেক মাস পর্যন্ত আমার বেতন বন্ধ রয়েছে।
ঠিকাদারের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায় না। ঠিকাদার ব্রিজের সংযোগ কাজ না করেই চলে যান। আর সংযোগ না থাকায় বর্ষা মৌসুমে ব্রীজদিয়ে পাড়া পাড়ের কোন উপায় থাকে না। অনেক সময়ে চলাচল করতে গিয়ে ব্রিজ থেকে পড়ে গুরুত্বর আহত হয়। এ উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ সুলতান হোসেন বলেন, চত্রা আমতলা খালের ওপর গার্ডার ব্রিজটির সংযোগ সড়কের কাজ বারবার ঠিকাদারকে তাগিদ দেয়ার পরেও তিনি কোন উদ্যোগ নিচ্ছেন না। এ বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত এবং উক্ত ঠিকাদারের কাজ বাতিল করে নতুন করে টেন্ডারের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে।
Comment Disabled



