গলাচিপায় ঐতিহ্যবাহী দয়াময়ী মেলা

স্টাফ রিপোর্টার 3
পটুয়াখালী বার্তা, পটুয়াখালী

তারিখ: ২০১৭-০২-০৩ | সময়: ০৮:৪৩:০২


গলাচিপা প্রতিনিধি ॥ পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চিকনিকান্দী ইউনিয়নের সুতাবাড়িয়া গ্রামে দুইশত বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী দয়াময়ী মাঘি সপ্তমী মেলা হাজার হাজার দর্শনার্থীদের কোলাহলপূর্ণ উৎসব মুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৩ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার ভোর ৬ টা থেকে কালী পূজা ও শিব পূজার মধ্য দিয়ে এ মেলার কার্যক্রম শুরু হয়। ভোর থেকে সন্ধা পর্যন্ত ঢাক-ঢোল, শঙ্খ সহ বিভিন্ন বাদ্য-বাজনা ও দর্শনার্থীদের কলরবে মুখরিত ছিল মেলা প্রাঙ্গণ। মেলায় অনেক শিশুর বাৎসরিক মাথা মুন্ডন করা হয়। এছাড়া মেলার কালী মন্দিরে পাঠা বলিদান হয়। ইহলৌকিক ও পরলৌকিক ভাবদর্শন, দেব-দেবীর গুণ কীর্তনের সমন্বয়ে এ যেন এক মিলন মেলা। মেলায় রঙ বেরঙের আকর্ষণীয় বিভিন্ন খেলনার দোকান, পল্লী বাসীদের স্ব হস্তে তৈরিকৃত বুনন শিল্পের সামগ্রী, গৃহস্থলীর ব্যবহার্য তৈজস পত্রের পণ্য সামগ্রী, মাটির তৈরি বাসন-কোসনের হরেক রকম দোকান, মিষ্টি সামগ্রীর দোকান, খাবারের দোকানের পসরা বসে। মেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক যুগল দেবনাথ জানান, অর্থের অভাবে মেলার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। মেলাটির বৃহত্তম আঙ্গিনার অনেক জায়গা আজ নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। জায়গার অভাবে দুইশত বছরের ঐতিহ্যবাহী এ মেলা এক সময়ে কালের বিবর্তনে বিলুপ্ত হওয়ার আশংকা রয়েছে। এমতাবস্থায় সরকারি প্রশাসনিক ও আর্থিক সাহায্যের একান্ত প্রয়োজন। এককালীন ও বাৎসরিক সরকারি অনুদান পেলে মেলার আঙ্গিনার বিস্তৃতি ও মন্দির পুনঃসংস্কারের মধ্য দিয়ে মেলাটি আবার ফিরে পাবে তার পূর্ণ উদ্যম, উৎসাহ-উদ্দীপনা, দুইশত বছরের পুরনো লৌকিক ও ধর্মীয় কৃষ্টি সংস্কৃতির ঐতিহ্য যা মেলাটিকে নব যৌবনে সিক্ত করে প্রাণোচ্ছ্বল ও প্রাণস্পন্দনের সম্মিলনে সঞ্জিবনী শক্তির সঞ্চার সাধন করবে বলে এলাকাবাসীর ঐকান্তিক বিশ্বাস।
এ ব্যাপারে মেলার পুরোহিত নিখিল গাঙ্গুলী (৬০) এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতি বছরের মত এবারও মেলা শুরু হয়েছে, তবে নদী ভাঙ্গনের ফলে স্থান সংকুলন না হওয়ায় মেলায় আগত মানুষদের দাঁড়িয়ে থেকে বেশ দুর্ভোগ সহ্য করে মেলার আনন্দ উপভোগ করতে হচ্ছে। এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান এরশাদ হোসেন বাদল বলেন, শ্রী শ্রী দয়াময়ী কালী মন্দিরের সংস্কার কাজ অতীব জরুরী বিধায় আমি সাধারণ মানুষদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে সামান্য কিছু অর্থ যোগাড় করে মন্দিরের সংস্কার ও এ বছরের মেলা উদযাপনের কোন রকম ব্যবস্থা করতে পেরেছি মাত্র। কিন্তু মেলাটি তার পুরনো ঐতিহ্য ধারণ করে স্বমহিমায় পুনর্জাগরণ লাভ করে চিরদিন টিকে থাকতে পারে সেজন্য সরকারের সার্বিক সহযোগিতা ও সদয় বিবেচনা প্রার্থনা করছি। তিনি আরও বলেন, মেলাটি যাতে সুন্দর সাবলীল, অবাধ, শান্তিপূর্ণ, ভাব গাম্ভীর্য, সুশৃঙ্খল, অনাবিল আনন্দ ও উৎসব মুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় সেজন্য আমাদের এমপি আলহাজ্ব আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইনের নির্দেশে সব ধরনের প্রশাসনিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে করে সর্ব সাধারণ জাতি, ধর্ম, বর্ণ ভুলে গিয়ে নিরাপদে মেলায় যোগদান করে মেলার আনন্দ নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নিতে পারবে বলে আশা রাখি। মেলাটি এ অঞ্চলের হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি তথা বিশেষ ভাবে শিশু-কিশোর ও তরুণ-তরুণীদের কাছে বিপুল আনন্দের খোরাক। মানুষের জন্ম হোক যথা তথা কর্ম হোক ভাল- যথা ধর্ম তথা জয়- মানুষ বাঁচে তার কর্মের মধ্যে বয়সের মধ্যে নয়- এ হচ্ছে এ মেলার শ্বাশত মর্মবাণী- ঐতিহ্যময় ধর্ম ও লৌকিক সাংস্কৃতিক উৎসবের অফুরন্ত উৎস। এ সময়ে মেলায় উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা কলেজের সাবেক ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় যুবলীগ সদস্য মু. মামুন আজাদ, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক অবনী শীল, ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ও ইউপি সদস্য বিবেক দেবনাথ, সমাজ সেবক বাবু আইচ প্রমুখ।





Comment Disabled

Comments