পূর্ব-দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার দুই ট্রলারে জলদস্যুর হানা

স্টাফ রিপোর্টার 3
পটুয়াখালী বার্তা, পটুয়াখালী

তারিখ: ২০১৭-০২-০৩ | সময়: ০৮:৩৬:০৯


কলাপাড়া প্রতিনিধি ॥ কুয়াকাটা থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পুবে ঢালচর সংলগ্ন পূর্ব-দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে এফবি বাইচু (১) ও এফবি বাইচু (২) নামের দু’টি মাছ ধরার ট্রলারে জলদস্যুরা হানা দিয়েছে। ট্রলার মালিক আলীপুরের বেল্লাল হোসেন জানান, ২০/২২ জনের একটি জলদস্যু সশস্ত্র হানা দেয় ট্রলার দুটিতে। তারা জেলেদের জিম্মি করে মোবাইল সেট, মাছ, জাল, জ¦ালানি, সোলার প্যানেলসহ ব্যাটারি নিয়ে গেছে। ভেঙ্গে অকেজো করে দেয় ট্রলার দু’টির ইঞ্জিন। এসময় ট্রলারে অবস্থানরত এক রোহিঙ্গা জেলেকে জলদস্যুরা মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ করে নেয়। বেল্লাল আরও জানান, বৃহস্পতিবার শেষ বিকালে জলদস্যুরা তার এমন সর্বনাশ করে।
৩ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার শেষ বিকালে খবর পেয়ে অপর একটি ট্রলার নিয়ে ডাকাত কবলিত ভাসমান ট্রলার দুটি উদ্ধারের জন্য সাগরে লোক পাঠিয়েছেন। বেল্লাল তার ট্রলারের মাঝি দেলোয়ার হোসেনের বরাত দিয়ে জানান, জলদস্যুরা সবাই বাঁশখালী এলাকার। তাদের কাছে তিনটি বন্দুক এবং কয়েকটি রামদা ও ছ্যানা ছিল। কোস্টগার্ড নিজামপুর ক্যাম্পের কন্টিজেন্ট কমান্ডার আব্দুল আলিম জানান, ঘটনাস্থল থেকে কালকিনির কোস্টগার্ড ক্যাম্প কাছে থাকায় তাদেরকে অবহিত করা হচ্ছে। অপরদিকে এফবি ফয়সাল ট্রলারসহ ১০ জেলে বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারে গিয়ে ১৮দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে। ১৬ জানুয়ারি ট্রলারটি আলীপুর ঘাট থেকে গভীর সাগরে মাছ শিকারে যায়। এরপর থেকে সবাই নিরুদ্দেশ। নিখোঁজরা হচ্ছেন, লতাচাপলী ইউনিয়নের মাইটভাঙ্গা গ্রামের ট্রলার মাঝি আলী হোসেন গাজী (৩৫) ও জেলে কবির হাওলাদার (৩২), সোবাহান ঘরামী (৪৫), আলমগীর মাতুব্বর (৩৫), নজরুল গাজী (৩২), কাওছার মুসুল্লী (২৬), হাচান হাওলাদার (১৭) এবং মহিপুর ইউনিয়নের সেরাজপুর গ্রামের মো. রুবেল (২৫), জাহিদুল (১৮) ও শামীম (১৬)।
এসব জেলেদের খোজার জন্য ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এফবি ফেরদৌস ও এফবি খাদিজা নামে দু’টি মাছধরা ট্রলার হন্য হয়ে অনুসন্ধান চালাচ্ছে। নিখোঁজ জেলে আলমগীরের বড় ভাই রুহুল আমিন মাতুব্বর জানান, ট্রলারটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে ভারতীয় সীমানায় ভেসে যেতে পারে কিংবা ডাকাতের কবলে পড়তে পারে। এখন এসব জেলে পরিবারে শোকাবহ অবস্থা বিরাজ করছে। চলছে না জানা শঙ্কার আতঙ্ক।
মৎস্য আড়তদার সমিতির সভাপতি আনছার উদ্দিন মোল্লা জানান, নিখোঁজ জেলেদের অনুসন্ধান অব্যাহত রেখে কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীকে বিষয়টি অবহিত করেছি। মহিপুর থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, তাদের কে কেউ এ বিষয় অবহিত করেনি।





Comment Disabled

Comments