৫০ হাজার পরিবারের মুখে হাসি

স্টাফ রিপোর্টার 3
পটুয়াখালী বার্তা, পটুয়াখালী

তারিখ: ২০১৬-০৯-০২ | সময়: ০৮:১২:৩৫


কলাপাড়া প্রতিনিধি ॥ কলাপাড়ায় উপকূলের হাজার হাজার জেলে, আড়ত, ট্রলারমালিকসহ এ পেশার সঙ্গে নির্ভরশীল অন্তত ৫০ হাজার পরিবারে মুখে হাসি ফুটেছে। বইছে খুশির জোয়ার। সাগর-নদীতে কিংবা মোহনায় প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ায় এসব পরিবারে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। প্রায় এক সপ্তাহকাল থেকে ইলিশ শিকারী জেলেসহ এ পেশা সংশ্লিষ্টদের মনে বিরাজ করছে স্বস্তি। লাখ লাখ টাকার ইলিশ বিক্রি করে সারা মৌসুমের লোকসান পুষিয়ে নিচ্ছেন ট্রলার কিংবা আড়ত মালিক। পাশাপাশি জেলেরাও দাদনের বোঝা অনেকটা হালকা করছেন। যেন এ পেশার মানুষ এ বছর আর্থিক নিরাপত্তার খোঁজ পেয়েছেন। পেশার সঙ্গে সম্পৃক্ত আড়ত শ্রমিকরাও কাটাচ্ছেন কর্মব্যস্ত সময়। ইলিশের বৃহৎ মোকাম মহিপুর-আলীপুর ও কুয়াকাটায় বিরাজ করছে এ পেশার মানুষের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ। লেনদেন চলছে কড়কড়ে কোটি কোটি টাকার নোট। যেন কেটে গেছে এ পেশার হাজার হাজার পরিবারে আকাল। জেলেসহ এ পেশায় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী এবং মৎস্যবিভাগ, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ডসহ সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল জাটকা নিধনরোধে অভিযান এবং মা ইলিশ রক্ষায় নিষেধাজ্ঞাকালীন কার্যকর পদক্ষেপের সুফল হিসেবে সবাই দেখছেন এমন ইলিশের প্রচুর আমদানিকে। মহিপুর মৎস্য আড়ত মালিক সমিতির সভাপতি গাজী ফজলুর রহমান জানান, গত চার/পাঁচ দিন ধরে প্রচুর ইলিশের আমদানি হচ্ছে। গড়ে শুধুমাত্র মহিপুর থেকে অন্তত তিন হাজার মণ মাছ দেশের বিভিন্ন মোকামে চালান হচ্ছে বলে তার দাবি। জানালেন, এফবি টিপু-২ নামের একটি ট্রলার একবারে ১৫৮ মণ ইলিশ পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে ওই বোটের মালিক এ পরিমাণ মাছ প্রায় ২৫ লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ বছর ইলিশের দামও বেশ চড়া। ৪০০-৫০০ গ্রাম পর্যন্ত সাইজের ইলিশ ১১/১২ থেকে ১৪/১৫ হাজার, ৭০০-৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১৯ হাজার টাকা মণ। এর বড় সাইজের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২৪-২৫ হাজার টাকা মণ দরে। একই দৃশ্য আলীপুর মৎস্য বন্দরসহ কুয়াকাটার। তবে কুয়াকাটার খুটা জেলেদের ইলিশের সাইজ একটু বড়। কুয়াকাটার ঘরামী ফিস-ঝুমা ফিস আড়তে দেখা গেছে ইলিশে যেন সয়লাব। মোট কথা কলাপাড়া উপজেলার এই তিন মোকাম ছাড়াও লক্ষ্মীর বাজার, চাপলীর বাজার, গঙ্গামতির ধোলাই বাজার, কাউয়ারচরের বটতলা, ধুলাসার, বাবলাতলা, ঢোস, ব্যুরোজালিয়া, মুন্সিপাড়া, চারিপাড়া, দেবপুর, পাটুয়া, খালগোড়াসহ সব কয়টি ছোট বড় মোকামের প্রায় এক শ’ আড়তে এখন ইলিশের আমদানি রয়েছে। রয়েছে আড়তগুলোতে প্রাণচাঞ্চল্য। অধিকাংশ আড়ত মালিক জানান, এবছর যে পরিমান ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে তাতে সবাই লোকসান পুষিয়ে লাভের মুখ দেখছে। অনেকে অর্ধকোটি টাকা পর্যন্ত লাভে পৌছেছেন। কুয়াকাটা আশার আলো জেলে সমবায় সমিতির সভাপতি নিজাম শেখ জানালেন, তাদের প্রায় ১৮ শ’ সদস্য রয়েছে। সবাই খুটা জেলে। সবাই এ বছর এখন পর্যন্ত মোটামুটি ভাল ইলিশ পাচ্ছেন। প্রত্যেকেই খরচ বাদ দিয়ে কম-বেশি দাদন পর্যন্ত শোধ করে যাচ্ছে। আড়ত মালিক, ট্রলার মালিকসহ জেলেদের হিসাব অনুসারে প্রতিদিন কলাপাড়ার বিভিন্ন স্পট থেকে অন্তত চার হাজার মণ ইলিশ দেশের বিভিন্ন বাজার চালান হচ্ছে। সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম জানান, মা ইলিশ রক্ষায় এবং জাটকা নিধনরোধে মৎস্য অফিসের পরিকল্পিত উদ্যোগে পাওয়া সুফলে জেলেরা প্রচুর ইলিশ পাচ্ছে। বিশেষ করে জাটকা নিধন রোধ এবং মা ইলিশ রক্ষায় প্রজননকালীন সময় জেলেদের বিশেষ ভিজিএফ প্রদানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পদক্ষেপ শতভাগ সফল হওয়ায় আজকের ইলিশের এতো আমদানি হয়েছে বলেও এ কর্মকর্তা জানান। প্রচুর ইলিশের আমদানি হওয়ায় স্থানীয় বাজারেও এখন প্রচুর ইলিশের বেচা-কেনা চলছে। মোটকথা কলাপাড়ার জেলে পল্লীসহ ইলিশের মোকামগুলোয় এখন বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। তবে হঠাৎ করে ফের আবহাওয়া একটু দুর্যোগপূর্ণ হওয়ায় জেলেসহ ট্রলার মালিকদের মধ্যে আতঙ্ক আর শঙ্কা দেখা দিয়েছে।





Comment Disabled

Comments