সেই নিষ্ঠুরতম হত্যাকান্ডের দিন রক্তাক্ত ১৫ আগস্ট

স্টাফ রিপোর্টার 3
পটুয়াখালী বার্তা, পটুয়াখালী

তারিখ: ২০১৬-০৮-১৪ | সময়: ০৮:২৭:১৪


বার্তা রিপোর্ট ॥ ১৯৭৫ সালের সেই নিষ্ঠুরতম হত্যাকা-ের দিন ১৫ আগস্ট। এ দিনটি বাঙালি জাতির জন্য ‘টার্নিং পয়েন্ট’। সাগরসম অশ্রু, সীমাহীন ত্যাগ, ৩০ লাখ শহীদের রক্তের ওপর প্রতিষ্ঠিত সফল মুক্তিযুদ্ধ বিশ্বাস ঘাতকদের পেছন থেকে আক্রমণে পরাজিত হয় এই দিনে।
বঙ্গবন্ধু বাঙালির প্রেরণা। যে বাড়িতে বঙ্গবন্ধু সপরিবারে শহীদ হয়েছিলেন, সেই ধানম-ির ৩২ নাম্বারের বাড়িটি জাতির অন্যতম তীর্থস্থানে পরিণত হয়েছে। আর বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতির সমগ্র অস্তিত্বের সঙ্গে মিশে আছেন। বাংলাদেশের মানুষ ১৫ আগস্ট পালন করছে অশেষ যন্ত্রণা ও বেদনাবোঁধে ভারাক্রান্ত হয়ে, লজ্জায় অধোবদন হয়ে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু দেশকে ভালোবাসতেন অকৃত্রিমভাবে, দেশের মানুষও তাকে দিয়েছে হৃদয় উজাড় করা ভালোবাসা। তাই খুনি ঘাতকচক্র ও তাদের পৃষ্ঠপোষকদের সব চক্রান্ত, চেষ্টা, অপতৎপরতা ব্যর্থ হয়ে গেছে। এ দেশের মানুষের হৃদয়জুড়ে তার অবস্থান।আর কে চৌধুরী আজ রক্তাক্ত ১৫ আগস্ট। মহাশোকের দিন। বঙ্গবন্ধুর শাহাদাতবরণের দিন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে সেনাবাহিনীর বিপথগামী কিছু সদস্যের হাতে সপরিবারে প্রাণ হারান সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর পশ্চিম পাকিস্তানের কায়েমি দোসররা যখন বাঙালির সামগ্রিক উন্নয়নের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করে এবং যখন উপমহাদেশে ধর্মীয় জাতীয়তার জয়জয়কার, তখন বঙ্গবন্ধু সাহসের সঙ্গে ভৌগোলিক ও ভাষাভিত্তিক বাঙালি জাতীয়তাবাদের দিকে ঝুঁকে পড়েন এবং সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির প্রতি সংগ্রামী হয়ে তিনি হয়েছেন সমাজবাদি। ১৯৬৯ সালের ৫ ডিসেম্বর শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব বাংলার নামকরণ করেন ‘বাংলাদেশ’ এবং তিনি বলেন, ”একসময় এ দেশের বুক হতে মানচিত্রের পৃষ্ঠা হতে ‘বাংলা’ কথাটির সর্বশেষ চিহ্নটুকুও চিরতরে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হইতেছে। জনগণের পক্ষ হইতে আমি ঘোষণা করিতেছি- আজ হইতে পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশটির নাম পূর্ব পাকিস্তানের পরিবর্তে শুধুমাত্র ‘বাংলাদেশ’।” বঙ্গবন্ধুর এই ঐতিহাসিক ঘোষণাকে পূর্ব বাংলার সংগ্রামী জনগণ বিপুলভাবে অভিনন্দিত করে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলার জনগণের নিজের অধিকার আদায়, আন্দোলন ও সংগ্রামকে বেগবান করার লক্ষ্যে বিভিন্ন সভা ও সমাবেশে বিপ্লবী উক্তি করেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার আগেই তিনি তাঁর পরিকল্পনা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, ‘আমি একে প্রাচ্যের সুইজারল্যান্ড করতে চাই।’ বঙ্গবন্ধু সব সময় স্বপ্ন দেখতেন একটি শোষণহীন সমাজ গঠনের, যেখানে ধনী-গরিবের কোনো ব্যবধান থাকবে না। তাঁর এই আপসহীন সংগ্রাম আজ ও আগামী দিনের প্রজন্মের জন্য আদর্শ ও পাথেয় হয়ে থাকবে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি থাকা শেখ মুজিবুর রহমানকে নির্জন সেলের সামনে কবর খুঁড়ে ভয় দেখানোর চেষ্টা হয়েছে। কিন্তুু মুক্তিপাগল অসীম সাহসী বীর বাঙালি নেতা শেখ মুজিবুর রহমান বলিষ্ঠ কণ্ঠে বলেছেন, ‘আমি বাঙালি, আমি মুসলমান, আমি মানুষ, মানুষ একবারই মরে, কয়েকবার মরে না, আমি কখনোই আতœসর্মপণ করব না। যদি তোমরা আমাকে মেরে ফেল, মৃত্যুর পর আমার লাশটা আমার দেশে আমার মানুষদের কাছে পৌঁছে দিও।’ পৃথিবীর ইতিহাসে এ রকম সফল রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাঙালি জাতির স্বাধীন সত্তা প্রতিষ্ঠা করতে সারা জীবন ত্যাগ-তিতিক্ষা করেছেন, জেল-জুলুম, অত্যাচার, নির্যাতন সহ্য করেছেন; এমনকি ফাঁসির দড়িও তাঁকে লক্ষ্য থেকে একচুলও নড়াতে পারেনি কোনো দিন। একমাত্র শেখ মুজিবই বলতে পারতেন, ‘আমার লোক, আমার দেশ’। বাঙালি জাতির হাজার বছরের ইতিহাসে একমাত্র তিনিই এ কথাটি বলার যোগ্যতা অর্জন করতে পেরেছেন। মুক্তিযুদ্ধের পর গোটা বিশ্ববাসীর কাছে বঙ্গবন্ধু উদাত্ত আহ্বান করে বলেন, ‘আমার একমাত্র প্রার্থনা, বিশ্ব আমার দেশের মানুষের সাহায্যে অগ্রসর হয়ে আসুক। আমার হতভাগ্য স্বদেশবাসীর পাশে এসে দাঁড়াক। দেশের কোটি কোটি ক্ষুধার্ত মানুষের পাশে বিশ্ববাসী দাঁড়াবে- এটাই আমার একমাত্র কামনা।’ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পর শুরু হয় অরাজকতা, সামরিক শাসন জারি, হত্যা ও লুণ্ঠনের অপরাজনীতি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং তথ্য বিকৃতীর খেলায় মেতে ওঠে পাকিস্তানি আলবদর, আলশামসদের এ দেশীয় দোসররা। শুধু তা-ই নয়, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর খুনিদের রক্ষার্থে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করার মতো জঘন্য অপরাধ করে কিছু অকৃতজ্ঞ ও নির্লজ্জ পাকিস্তানি দোসর। মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার আদর্শ, লক্ষ্য ও চেতনাকে ধ্বংস করে সমগ্র জাতিকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয়। অবশেষে ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধুর সার্থক উত্তরসূরি জননেত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এলে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচারকাজ শুরু করে। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার হয়েছে। জাতি আজ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে সোচ্চার ও ঐক্যবদ্ধ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের মানুষ ত্যাগ-তিতিক্ষা, আন্দোলন-সংগ্রামের পথ পাড়ি দিয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ তথা মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার আদর্শ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে।





Name:

Email:

Website:

Comment:


Comments