৩ বছরে নির্মাণ হচ্ছে ১৩ হাজার সেতু-কালভার্ট পাল্টে যাচ্ছে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা
পটুয়াখালী বার্তা, পটুয়াখালী
তারিখ: ২০১৬-০৭-২১ | সময়: ০৯:০৫:২১
বার্তা রিপোর্ট ॥ আমূল পাল্টে যাচ্ছে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা। গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা-কৃষির উন্নয়ন ও দুর্যোগ ঝুঁকি থেকে রক্ষায় আগামী তিন বছরে সারাদেশে ১৩ হাজার সেতু-কালভার্ট নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে একটি প্রকল্পের আওতায় এর নির্মাণ কাজ শুরু করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতর। এটি গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের রেকর্ড। কারণ গত তিন যুগে আড়াই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে সারাদেশে ১৮ হাজার সেতু-কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতর (ডিডিএম) সূত্র জানায়, ‘গ্রামীণ রাস্তায় কম-বেশী ১৫মিটার দৈর্ঘ্যের সেতু-কালভার্ট নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। তিন হাজার ৬৮৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা বরাদ্দের এ প্রকল্পটি একনেকে পাশ হয়েছে চলতি বছরের ১ মার্চ। ২০১৯ সাল পর্যন্ত তিন বছর মেয়াদী এ প্রকল্পের আওতায় ১২ হাজার ৯৯৩টি (এক লাখ ২৯ হাজার ৯২৪ মিটার) সেতু-কালভার্ট নির্মাণ করা হবে। ইতিমধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ শুরু হয়েছে। চলতি অর্থ বছরে ৪৮৯ উপজেলায় এক হাজার ২৯৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে চার হাজার ৮০৫টি (৪৭ হাজার ৫৪২মিটার) সেতু-কালভার্ট নির্মাণ কাজ চলছে। সম্পূর্ণ সরকারি (জিওবি) অর্থায়নে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে।
সূত্র আরো জানায়, দেশের ৬৪টি জেলার সব উপজেলায় ১৯৮২-৮৩ অর্থ বছর থেকে ২০১৫-১৬ সাল পর্যন্ত ১৮ হাজার ২৩২টি সেতু-কালভার্ট (এক লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৯ মিটার) নির্মাণ করা হয়েছে। এতে ব্যয় হয়েছে দুই হাজার ৩৮৫ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। পাশাপাশি ২০০০ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত প্রায় সাত লাখ ৯২ হাজার ৩৭৫ কিলোমিটার মাটির রাস্তা নির্মাণ-সংস্কার করা হয়েছে। এতে ছোট বড় এক লাখ ২২টি অংশে পানি নিস্কাশন ও নৌ চলাচলের জন্য গ্যাপ রাখা হয়েছে। ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এ সব গ্যাপে সেতু-কালভার্ট নির্মাণ করা হয়। বিভিন্ন কর্মসূচি ও প্রকল্পের আওতায় সরকারের তহবিল থেকে এসব অবকাঠামো বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গ্রামীণ এলাকার রাস্তার গ্যাপে সেতু-কালভার্ট নির্মাণ করায় জলাবদ্ধতা নিরসনের মাধ্যমে দুর্যোগজনিত ঝুঁকি কমে যাচ্ছে। স্থানীয় হাট-বাজার, গ্রোথসেন্টার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ইউনিয়ন পরিষদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপিত হচ্ছে। পাশপাশি সহজ হচ্ছে কৃষি উপকরণ পরিবহণ ও বাজারজাত করা। এসব অবকাঠামোগত উন্নয়নে আমূল পরিবর্তন ঘটছে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার। সুযোগ তৈরি হচ্ছে কর্মসংস্থানের। অর্থনীতিতে পড়ছে ইতিবাচক প্রভাব। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতর (ডিডিএম) গ্রামীণ অর্থনীতিতে এই সম্ভাববনার দিগন্ত উন্মোচন করে যাচ্ছে। গ্রামীন জনপদ গড়ে তোলা হচ্ছে উন্নয়নের মডেল হিসেবে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জনগুরুক্বপূর্ণ বিবেচনায় স্থান নির্বাচন করে স্বচ্ছতার সঙ্গে দরপত্রের মাধ্যমে সেতু-কালভার্ট নির্মাণের কার্যাদেশ দেয়া হয়। কঠোরভাবে তদারক করা হয় প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাদের (পিআইও) প্রতি সুষ্ঠু ও যথাযথভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্দেশনা রয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্রিয়ভাবে সরেজমিনে প্রকল্প তদারক করেন কউর্ধতন কর্মকর্তারা।
গ্রামীণ রাস্তায় কম-বেশী ১৫মিটার দৈর্ঘ্যের সেতু-কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক সাখাওয়াত হোসেন বলেন, কৃষিসহ এলাকার সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্ব বিবেচনা করে সেতু-কালভার্ট নির্মাণ করা হচ্ছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটলেই এলাকার উন্নয়ন ঘটে। প্রকল্পের কাজ কঠোরভাবে মনিটর করা হচ্ছে।
এবিষয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের মহাপরিচালক ও গ্রামীণ রাস্তায় কম-বেশী ১৫মিটার দৈর্ঘ্যের সেতু-কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক রিয়াজ আহমেদ জানান, প্রকল্পের আওতায় প্রত্যেক ইউনিয়নে দুটি করে সেতু-কালভার্ট নির্মাণ করা হবে। এছাড়া যেসব অঞ্চলে খালবিল, সাঁকো, জলাবদ্ধতা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান-হাটবাজার রয়েছে সেখানে বিশেষভাবে সেতু-কলাভার্ট বরাদ্দ দেয়া হবে। তিনি বলেন, এসব সেতু-কালভার্ট নির্মাণ হলে গ্রামীণ জনগণের বিদ্যমান সমস্যাগুলো দূর হবে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে। যোগাযোগের কারণে নারী শিক্ষায় বিশেষ ভূমিকা রাখবে। হাট-বাজার ও ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে সহজে যেতে পারবেন এবং দুর্যোগ ঝূঁকি থেকে রক্ষা পাবেন এলাকার বাসিন্দারা। এমনকি আর্থিক সহায়ক হিসেবে কাজ করবে সেতু-কালভার্টগুলো।



