স্টাফ রিপোর্টার ॥ পটুয়াখালী জেলায় ছাত্রলীগের ৬৪ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী বিভিন্ন আয়োজনে উদযাপন করা হয়েছে। সকাল ৬ টায় দলীয় কার্যালয় জাতীয় পতাকা উত্তোলন, সাড়ে ছয়টায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু প্রতিকৃতি পুষ্পমাল্য অর্পণ। বেলা সাড়ে এগারটায় জেলা ব্যায়ামাগার প্রাঙ্গণ মাঠ থেকে এক বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে লঞ্চঘাট প্রঙ্গনে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন ছাত্রলীগ সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও থানা ছাত্রলীগের সভাপতি। পরে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় কেক কেটে ৬ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করা হয়।
কলাপাড়া প্রতিনিধি জানান, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং বিরোধী দলের সকল নৈরাজ্য মোকাবেলার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে কলাপাড়ায় ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপিত হয়। সকালে দলীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর উদযাপন। সকাল ৭টায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করা হয়। সকাল সাড়ে দশটায় এক বর্ণাঢ্য র্যালি শহর প্রদক্ষিণ করে। র্যালি শেষে মনোহরী পট্টিতে ছাত্র সমাবেশ হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুল হাসান সুজন মোল্লা। প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কলাপাড়া পৌর মেয়র উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম রাকিবুল আহসান, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ, শহর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শহীদুল আলম, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ফিরোজ শিকদার, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন সোহাগ, পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি মনিরুল ইসলাম মিলন, সম্পাদক হিমেল আল মাসুম, কলেজ শাখার সভাপতি সৌরভ শিকদার প্রমুখ।
গলাচিপা প্রতিনিধি জানান, বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে গতকাল গলাচিপায় ছাত্রলীগের ৬৪ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করা হয়েছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্প মাল্য অর্পণ, দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন, ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের সংবর্ধনাসহ এ উপলক্ষে শহরে বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয় এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অস্থায়ী কার্যালয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ ইসরাত হোসেন আব্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন এমপি সমর্থিত উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক ছাত্রনেতা মোঃ রেজাউল করিম, বিশেষ অতিথি সাধারণ সম্পাদক কাজী শহিদুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্র লীগের সাবেক সভাপতি মাইনুল ইসলাম রনো, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও ছাত্রলীগের সাবেক নেতা মোঃ মোশারেফ হোসেন, কাওসার তালুকদার, পৌর কাউন্সিলর মাহমুদুল হাসান ডিউক, কাউন্সিলর সমীর কৃষ্ণ পাল, আবুল বশার, সাবেক কমিশনার মোঃ খলিলুর রহমান, মোঃ জাফর হোসেন, যুবলীগ নেতা মামুন আজাদ, মোঃ ইলিয়াস, মশিউর রহমান বুলবুল, কামরুল তালুকদার, সোহেল আরমান, নিপু সিকদার প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন ছাত্র লীগের সাধারণ সম্পাদক তানভির আহম্মেদ সোহাগ।
বাউফল প্রতিনিধি জানান, বাউফলে ছাত্রলীগের ৬৪তম প্রতিষ্ঠা বাষির্কী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে উপজেলা ও পৌর ছাত্রলীগের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। সকাল ৭ টায় দলীয় কার্যালয় জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে পুষ্প অর্পণ করা হয়। সকাল ১০ টায় বাউফল পৌরশহরে এক বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। র্যালিটি বাজার রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন করে। পরে দলীয় কার্যাল এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদ হাসান রুবেলের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়ার সহ-সভাপতি সামসুল আলাম মিয়া, বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মোতালেব হাওলাদার, সাংগঠনিক সম্পাদক মোশারেফ হোসেন খান পৌর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া পান্নু,। অন্যান্যর মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইব্রাহিম খলিল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম সিপন, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মশিউর রহমান, পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি সাইদুর রহমান হাসান, সাধারন সম্পাদক নিয়াজ মোর্শেদ প্রমুখ।
পবিপ্রবি- পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালা আয়োজনের মাধ্যমে উদ্যাপন করে ৬৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী । বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের নিচে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ, বেলা সোয়া ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের সামনে এবং ব্রিজের উপরে সাবেক ও বর্তমান ছাত্রনেতাদের পুনর্মিলনী এবং বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দসহ হাজারো ছাত্রছাত্রীর অংশগ্রহণে শোভাযাত্রাটি ক্যাম্পাসের ও দুমকি উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একাডেমিক ভবনের সামনে এসে শেষ হয়। তারপরে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ কেক কেটে নেতা কর্মিদের মাঝে বিতরণ করেন । সন্ধায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
উত্তম গোলদার জানান, মির্জাগঞ্জে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ছাত্রলীগের ৬৪ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে গতকাল বুধবার উপজেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে সুবিদখালী কলেজ ক্যাম্পাসে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, কেক কর্তন এবং বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করা হয়। এখান থেকে উপজেলা শহরে বের করা হয় এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রাটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদিক্ষণ শেষে মির্জাগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সাবেক ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান খান মোঃ আবু বকর সিদ্দিকী। সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন যুবলীগ নেতা জসিম উদ্দিন সবুজ, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা পলাশ বরন পোদ্দার,মোঃ সামসুল আলম মৃধা ও মোঃ আবুল বাশার নাশির। মোঃ রিয়াজুল ইসলাম (রুমান) এর পরিচালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ছাত্রলীগ নেতা মোঃ আসাদুজ্জামান রঞ্জু হাওলাদার, মোঃ মনিরুল ইসলাম হাওলাদার,মাইনুল ইসলাম কবির (মোল্লা),রিয়াজ হোসেন (সোহাগ),মোঃ আনোয়ার জোদ্দার,মোঃ সবুজ হাং,মোঃ মনিরুজ্জামান হাং, মোঃ নুরুল হক ও সাইফুল ইনলাম নেছার প্রমুখ।
দশমিনা প্রতিনিধি জানান, পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে ৬৪তম ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত হয়। সভাপতি মোঃ এনামুল হক রণির সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আঃ আজীজ, ইউপি চেয়ারম্যান এ্যাডঃ ইকবাল মাহমুদ লিটন, এ্যাডঃ উত্তম কুমার কর্মকার, যুবলীগ নেতা মোঃ জাকির হোসেন ভুট্টো, ছাত্রলীগ নেতা কামাল, জাহিদ হোসেন ও নাহিদ প্রমুখ।
সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, ১৯৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে পটুয়াখালীর রাজপথের লড়াকু সৈনিক, ক্রীড়াবিদ, ব্যবসায়ী ও পটুয়াখালী শহরের নতুন বাজার নিবাসী স্বর্গীয় রবিন্দ্রনাথ কর্মকারের জ্যেষ্ঠ পুত্র পংকজ কর্মকার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা থেকে পটুয়াখালী আসার পথে গতকাল বুধবার ভোরে পরলোকগমন করে (দিব্যান্ লোকান স্ব গচ্ছতি)।
জানা গেছে, ঢাকা থেকে মাওয়া হয়ে মাইক্রোবাস যোগে পটুয়াখালী আসার সময় শিবচর নামক স্থানে এলে সে গাড়ি থামিয়ে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গিয়ে হঠাৎ পড়ে যায়। পরে তাকে শিবচর উপজেলা হাসপাতালে নেয়া হলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৪৪ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই কন্যা, চার ভাই ও দুই বোনসহ অসংখ্য বন্ধু ও শুভাকাঙ্খী রেখে গেছেন। গতকাল বিকেলে তার মরদেহ শিবচর হাসপাতাল থেকে নিয়ে পটুয়াখালী রওয়ানা করা হয় এবং পটুয়াখালী মহাশ্মশানে আজ তার পিতা-মাতার শ্মশানের পাশে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শেষে রাখা হবে।
এফএনএস ॥ এবার বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন আদিত্য-রাণী মুখার্জি। রাণী মুখার্জিকে নিয়ে জন সম্মুখে তিনি নামলেন বিমানবন্দরে। ফটোগ্রাফাররা একের পর এক ছবি তুলছেন, কিন্তু ক্যামেরা দেখে প্রতিবারের মতো আর মুখ লুকাচ্ছেন না তিনি। তার এই সাহসিকতা দেখে এখন বলিউডে আবার নতুন করে গুঞ্জন উঠেছে।
গত সোমবার রাতে রাণী এবং পুরো চোপড়া পরিবার একই সঙ্গে নিউ ইয়র্ক ছুটি কাটিয়ে মুম্বাই ফিরলেন। একে একে পুরো চোপড়া পরিবার বেরিয়ে এলো এয়ারপোর্ট থেকে, সবশেষে বের হলেন এক সঙ্গে রাণী আর আদিত্য চোপড়া। সবাই যখন ছবি তোলা শুর করলো, তাতেও ঘাবড়ালেন না ক্যামেরা ভীরু আদিত্যও। যাকে দীর্ঘ নয় বছর পর ফ্রেমবন্দী করলো ফটোগ্রাফাররা।
জানা গেছে, প্রথম স্ত্রী পায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছেদে পর রাণীকে নিয়ে চোপড়া পরিবারে মৃদু দ্বন্দ¡ চলছিল। কিন্তু সবার ধারণা এবারের সফর সেই মৃদু দ্বন্দ¡কে একদম ম্লান করে দিয়েছে। আর এর ফলেই আশা করা যাচ্ছে, এ বছরই চোপড়া বাড়ির ছেলে আর মুখার্জি বাড়ির মেয়ে বসছেন বিয়ের পিঁড়িতে।
ফোকাস বাংলা ॥ সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে নির্মাণাধীন হোটেল নাজদা এস্টেটের অষ্টম তলা থেকে পড়ে দুই বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত হয়েছেন। নিহত মো. আলমগীর (২৮) ও গাজিউল হকের (২৭) বাড়ি কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ থানায়। জানা গেছে, সোমবার নাজদা এস্টেটে আল-মারিয়া মল সিনেমা কমপ্লেক্সের অষ্টম তলায় নির্মাণকাজ করার সময় বৈদ্যুতিক লিফট ছিড়ে দুই বাংলাদেশি শ্রমিক নিচে পড়ে যায়। এ সময় ঘটনাস্থলেই গাজিউল হকের মৃত্যু হয়। অপরজন (আলমগীর) শেখ খলিফা বিন মেডিকেল সিটি কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে মারা যান। বাংলাদেশ দূতাবাসের লেবার কাউন্সিলর লতিফুল হক কাজমী জানান, ওই দুই প্রবাসী বাংলাদেশি স্কয়ার জেনারেল কনস্ট্রাকশন কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। কোম্পানির কাছ থেকে তাদের ক্ষতিপূরণ হিসাবে দুই লাখ দিরহাম দাবি করা হয়েছে। নিহতদের মরদেহ শিগগিরই দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। নিহত দুই শ্রমিকের জন্য ক্ষতিপূরণ আদায়ের চেষ্টা চলছে বলেও লেবার কাউন্সিলর কাজমী জানান। হামদান স্ট্রিটে আল মারিয়া মল ও সিনেমা কমপ্লেক্সের উল্টো দিকে নির্মাণাধীন ভবনটিতে ওই দুর্ঘটনার পর শত শত মানুষ সেখানে ভিড় করে। এতে রাস্তায় যানজটের সৃষ্টি হয়। এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে খালিজ টাইমস জানিয়েছে, তার ছিঁড়ে নিচে পড়া তক্তার আঘাতে আশরাফ নামে আরেক বাংলাদেশি শ্রমিক আহত হয়েছেন। তাকে শেখ খলিফা মেডিকেল সিটি কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
ফোকাস বাংলা ॥ আওয়ামী লীগের সাংসদ কামাল আহমেদ মজুমদারের হাতে আরটিভির নারী সাংবাদিকসহ কয়েকজন সাংবাদিক লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন ক্ষুব্ধ গণমাধ্যমকর্মীরা। মানববন্ধন থেকে সাংসদ কামাল মজুমদারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করা হয়েছে। গতকাল বুধবার বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘অর্পণা সিংহসহ সাংবাদিকদের নির্যাতনের বিচার চাই’ ব্যানারে এ মানববন্ধন করা হয়। একই সঙ্গে এ ঘটনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির স্বচ্ছতা দাবি করেন গণমাধ্যমকর্মীরা। মানববন্ধনে বক্তারা কড়া সমালোচনা করে বলেন, ‘একজন সংসদ সদস্য হয়ে এভাবে তিনি (কামাল আহমেদ মজুমদার) একজন সংবাদ কর্মীর (অপর্ণা সিংহ) ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছেন তার নিন্দা জানাবার ভাষা আমাদের নেই। এ ঘটনা স্বাধীন ও মুক্ত সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে অন্তরায় সৃষ্টি করবে। জাতীয় প্রেসক্লাবের সেক্রেটারি সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেন, ‘পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একজন জনপ্রতিনিধির হাতে সাংবাদিক লাঞ্ছিত ও নির্যাতিত হওয়ার ঘটনা দু:খজনক। এটা স্বাধীন ও মুক্ত সাংবাদিকতার পথে অন্তরায় সৃষ্টি করবে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। আহত সাংবাদিক অপর্ণা সিংহের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। এই ঘটনার প্রতিবাদে সকল সাংবাদিককে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে থাকার আহবান জানাচ্ছি।
ডেইলি স্টার পত্রিকার মেট্রো এডিটর আব্দুল জলিল বলেন, ‘একজন সংসদ সদস্য হয়ে এভাবে তিনি একজন সংবাদ কর্মীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছেন তার নিন্দা জানাবার ভাষা আমাদের নেই। সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে সাংসদ কামাল আহমেদ মজুমদারকে মোকাবেলা করতে হবে। কামাল আহমেদ মজুমদারের অতীত কর্মকা- সংবাদ মাধ্যমে তুলে ধরতে হবে।
ক্যামেরা জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের নেতা হারুনুর রশীদ বলেন, কেবল এ ঘটনাই নয়, প্রতিনিয়তই কোন না কোনভাবে সাংবাদিকরা নির্যাতন নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। দু’দিন আগেও এক সাংবাদিকের ওপর গাড়ি তুলে দেওয়া হয়েছে। তাই সরকারের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আমাদের আবেদন সাংবাদিকদের নিরাপত্তা বিধানে তারা যেন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়।’
এসময় বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব আবদুল জলিল ভূঁইয়া, ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা, ডিআরইউ সেক্রেটারি সাজ্জাদ হোসেন খান তপু, দৈনিক সমকালের চিফ রিপোর্টার শাহেদ চৌধুরী, ডিআরইউ এর সহ-সভাপতি আজমল হক হেলাল, বাংলাবাজার পত্রিকার চিফ রিপোর্টার মশিউর রহমান,আরটিভির নিউজ ইনচার্জ লুৎফর রহমান শিকদার, বিশেষ প্রতিনিধি রাজীব খান ও যুগ্ম বার্তা সম্পাদক আনোয়ারুল হকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
স্টাফ রিপোর্টার ॥ পটুয়াখালীতে সৈকত আলী খান(১৮) নামের অনার্স ১ম বর্ষের ছাত্রের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার রাত ১১টার সময় শহরের ফায়ার সার্ভিস সড়কের ‘হাজী সাহেবের ছাত্রাবাস’ এর একটি রুম থেকে সৈকতের লাশ উদ্ধার করা হয়। মৃত সৈকত পটুয়াখালী সরকারি কলেজের অর্থনীতি ১ম বর্ষের (পুরাতন) ছাত্র এবং জেলার দশমিনা উপজেলার আলীপুরা গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে। প্রেমঘটিত ব্যাপার নিয়ে জনৈক ছাত্রীর সাথে অভিযান করে সৈকত আত্মহত্যার এ পথ বেছে নিয়েছে বলে তার সহকার্মীদের ধারনা।
সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মনিরুল ইসলাম জানান, সৈকতের ‘রুম মেইট’ একই কলেজের ৩য় বর্ষের ছাত্র সাইদুর ও নয়ন মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে ছাত্রাবাসের রুমে এসে সৈকতের ঝুলন্ত লাশ দেখে এলাকাবাসীকে খবর দেয়। পরে এলাকবাসী পুলিশকে খবর দিলে তারা সৈকতের লাশ উদ্ধার করে। ছাত্রাবাসের মালিক হাজী সুলতান আহমেদ মৃধা জানান, মৃত সৈকত এক বছর ধরে তার ছাত্রাবাসে বসবাস করে আসছিল। তার আচার-আচরণও ভাল ছিল।
সৈকতের ‘রুম মেইট’ সরকারি কলেজের ৩য় বর্ষের ছাত্র সাইদুর রহমান জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অপর রুম মেইট নয়নকে নিয়ে ঘুরতে বের হয়। এসময় সৈকতের সাথে তার কথা হয়। পরে রাত ৭টা ১০মিনিটের সময় সৈকত সাইদুরের মোবাইল ফোনে একটি ‘মিসড কল’ দেয়। রাত সাড়ে ৮টার দিকে রুমে এসে জানালা দিয়ে সৈকতের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পায়। সৈকতের লাশ পোষ্ট মর্টেম শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। এদিকে নিহত সৈকতের সহপাঠিরা জানায়, গত মঙ্গলবার দুপুরে সৈকতের প্রেমিকার সাথে সৈকতের মনোমালিন্য হয়। এরপর থেকেই সৈকত কিছুটা মানষিকভাবে ভেঙ্গে পরে। ক্ষোভে সৈকত আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে পারে বলে তাদের ধারনা।
স্টাফ রিপোর্টার ॥ পটুয়াখালীতে হিজবুত তাওহীদের ৫জন সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার দুপুরে শহরের হেতালিয়া বাঁধঘাট এলাকা থেকে তাদেরকে আটক করা হয়। আটককৃতরা হচ্ছে- মোঃ জসিম উদ্দিন(৩২), মোঃ নুরুজ্জামান (২৮), মোঃ নজরুল ইসলাম(৩০), মোঃ ইউসুফ আলী (২৭), মোঃ সানাউল্লাহ (২৬)। এদের সকলের বাড়ি পটুয়াখালী ও ঝালকাঠি জেলার বিভিন্ন এলাকায়। পটুয়াথালী সদর থানর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: মনিরুল ইসলাম জানান, মোবাইল ফোনে এলকাবাসী জানায় যে, একদল যুবক হেতালিয়া বাঁধঘাট এলাকায় ইসলামের নামে এর পরিপন্থী প্রচারানা চালাচ্ছে যে শুক্রবার নামাজ পরা যাবে না। এতে এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে তাদেরকে আটক করে গণধোলাই দেয়। ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হয়ে তাদের উদ্বার করে চিকিৎসা শেষে থানায় নিয়ে আশে। ধৃতদের বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যাবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি জানান।
এসআই আবুল খায়ের জানান, আটককৃতরা হেতালিয়া বাঁধঘাট এলাকার একটি দোকানে বসে দাজ্জালসহ বিভিন্ন জিহাদী বই ও সিডি দেখছিল। এছাড়া তাদের কথাবার্তায় অসংলগ্নতা প্রকাশ পেয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে পটুয়াখালী সদর উপজেলার শারিকখালী এলাকার বল্লবপুর গ্রামের মোঃ মোজাম্মেল তালুকদারের ২ ছেলে জসিম উদ্দিন ও নজরুল ইসলাম, মির্জাগঞ্জের ভয়াং এলাকার মোতাহার শিকদারের ছেলে ইউসুফ আলী, মরিচবুনিয়া এলাকার মৃত কাঞ্চন আলীর ছেলে মোঃ সানাউল্লাহ এবং ঝালকাঠি জেলার বাঁশবুনিয়া এলাকার মোঃ সাইদুর রহমান এর ছেলে মোঃ নুরুজ্জামান রযেছে।
জাকারিয়া হৃদয় ॥ পটুয়াখালীতে কৃষকদের মাঝে বিতরণকৃত রাসায়নিক সারের বস্তায় মাটি, সিমেন্ট এবং ইটের টুকরো পাওয়ার অভিযোগে কৃষি অফিস ঘেরাও করেছে কৃষকরা। পাশাপাশি সারের বস্তা ফেরত দিয়ে কৃষি অফিসের সামনে জড়ো করে রেখে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। তারা উপজেলা কৃষি অফিসার ও সংশ্লিষ্ট ডিলারশীপের শাস্তি দাবি করেন। গতকাল বুধবার সকাল ১০টা থেকে কৃষি অফিস ঘেরাও করলে হঠাৎ অফিসে তালা দিয়ে কৃষি অফিসার উধাও হন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে প্রকাশ, রবি মৌসুমে কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র চাষীদের ভুট্টো আবাদে সহায়তার আওতায় সরকার রাসায়নিক সার বিতরণ করে। গত ২ জানুয়ারি থেকে সদর উপজেলার ৯শ’ ভুট্টো চাষীর মধ্যে ২৫কেজি ডিএপি (ডাই এ্যামোনিয়াম ফসফেট) এবং ২৫ কেজি এমওপি (মিইরেট আব পটাশ) রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়। এরমধ্যে পৌরসভা ও কালিকাপুর ইউনিয়নে ৯০জন, লোহালিয়া ও কমলাপুর ইউনিয়নে ১৫০জন, আউলিয়াপুর ও মরিচবুনিয়া ইউনিয়নে ১৭০জন, ছোটবিঘাই ও বড়বিঘাই ইউনিয়নে ১৩০জন, বদরপুর ও লাউকাঠি ইউনিয়নে ১৫০জন, ইটবাড়িয়া ও মাদারবুনিয়া ইউনিয়নে ১৪০জন এবং জৈনকাঠি ইউনিয়নে ৭০জন কৃষক তালিকাভুক্ত হয়েছে। এছাড়া ওই ২ ধরনের রাসায়নিক ছাড়াও প্রতি চাষীকে ৩ কেজি ভুট্টো বীজ প্রদান করা হয়।
ওই সকল চাষীরা তাদেরকে বিতরণকৃত ওই রাসায়নিক সার নিয়ে বাড়িতে গিয়ে হতবাক হয়ে যান। সারের বস্তা খুলে সবাই আশ্চর্য হয়ে যান। প্রতিটি সারের বস্তার মধ্যে সারের পরিবর্তে সারের ন্যায় সিমেন্টের গুড়ো, ইট, মাটির বড় টুকরো পাওয়া যায়। যা দেখে কৃষকরা হতবাক হন। সরকারি সারের মধ্যে এগুলো কি? এমন প্রশ্নের সম্মুখীন হন ইউপি মেম্বার, ইউপি চেয়ারম্যান, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যান। পরে গতকাল সকল কৃষকরা ওই সারের বস্তা নিয়ে উপজেলা চত্বরে হাজির জন। শুরু হয় হৈচৈ। ঘেরাও করে উপজেলা কৃষি অফিসের রুমটি। কোন প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে রুমে তালা দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন উপজেলা কৃষি অফিসার আবু হেনা মোঃ জাফর।
সার ফেরত দিতে আসা বড় বিঘাই ইউনিয়নের কৃষক ওহাব খলিফা জানান, সারের বস্তার মধ্যে পাওয়া সিমেন্টের এ টুকরোগুলো ইটদিয়েও ভাঙ্গা যায়না। এগুলো জমিতে দিলে জমির উর্বরতা নষ্ট হবে। তিনি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছেন।
বল্লবপুর এলাকার কৃষক নজরুল, মাইনুদ্দিন জানান, কৃষকদের সাথে বড় ধরনের প্রতারণা করা হয়েছে। এ ঘটনার সাথে উপজেলা কৃষি অফিসারও জড়িত। মরিচবুনিয়া ইউনিয়নের কৃষক আলতাফ জানান, সারের বস্তার মধ্যে মাটির বড় বড় টুকরো পাওয়া গেছে। বস্তাগুলো কৃষি অফিসের সামনে রাখা হয়েছে। এদিকে দুপুর আড়াইটার দিকে সদর উপজেলার চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা এবং কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক মিলে ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দিলে কৃষকরা উপজেলা চত্বর ত্যাগ করতে থাকেন।
উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ ফোরকান শিকদার জানান, বুধবার সকাল থেকে কৃষকরা সারের বস্তাগুলো নিয়ে উপজেলায় হাজির হলে দেখা যায় যে, এগুলো আসলে কোন সার নয়। সকল বস্তায় সারের নামে ইট পাথরের গুড়ো এবং সিমেন্টের জমাটবাদা টুকরো ভরা। উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট সুলতান আহমেদ মৃধা জানান, আপতদৃষ্টিতে এগুলো সার বলে মনে হচ্ছেনা। এটি একটি বড় ধরনের ষড়যন্ত্র। এর পিছনে কারা জড়িত তা খুঁজে দেখা হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জাকির হোসেন জানান, এগুলো আসলে সার না অন্য কিছু তা পরীক্ষার জন্য পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে। তারপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরো জানান, বিএডিসি এর সিলকৃত এবং ইনটেক্ট প্যাকেটে এভাবে হওয়ার কথা নয়।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু হেনা মোঃ জাফর জানান, সংশ্লিষ্ট ডিলারশীপকে খবর দেয়া হয়েছে। তাছাড়া কৃষকদের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরো জানান, কৃষকদের ফেরত দেয়া সারের বস্তার ব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ হয়েছে এবং কৃষকদের ক্ষতিপূরণও দেয়া হবে।
এ ব্যপারে জানতে চাইলে পটুয়াখালী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এজেডএম মমতাজুর করিম কিছুটা রাগান্তিত স্বরে জানান, আমি কি আপনার সমবয়সি আমাকে যে সাহেব বলছেন? পরক্ষনেই বলেন, এগুলো উপজেলা কৃষি অফিসারের ব্যাপার তার সাথে যোগাযোগ করুন। পরে অবশ্য স্বইচ্ছায় তিনি স্বীকার করেন, মরক্কো থেকে সরকার এ সার আমদানী করেছে। ইনটেক্ট প্যাকেটে এ ধরনের ঘটনায় কিছুটা সন্দেহ লাগে। তারপরেও এগুলো পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
ফোকাস বাংলা ॥ জামায়াতে ইসলামী নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাইদীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের মামলায় নবম সাক্ষীর বক্তব্য ভুলভাবে প্রকাশ করায় দৈনিক নয়া দিগন্তকে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
আদালত বলেছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ওই ভুলের ব্যাখ্যা ছাপানোর জন্যও সংবাদপত্রটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার ‘মাওলানা সাঈদীর দিকে তাকিয়ে সাক্ষী বললেন, ওনাকে তো চিনলাম না’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করে নয়া দিগন্ত, যেই সংবাদপত্রটির সঙ্গে জামায়াতের বিভিন্ন নেতার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে মনে করা হয়। ওই সংবাদ প্রকাশের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক মেহেদি হাসানকে তলব করে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, আদালতে আলতাফ হাওলাদারের জবানবন্দি শেষ হলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ হায়দার আলী সাক্ষীকে বলেন, আপনি যার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন তিনি উপস্থিত আছেন কি না দেখে বলেন। তখন সাক্ষী ডকে বসা সাঈদীর দিকে তাকিয়ে বলেন, ‘তাকে তো চিনতে পারলাম না।’ তখন আইনজীবী বলেন, না চিনলে কাছে নিয়ে যাওয়া হবে। ওই প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল বলেছে, প্রতিবেদনে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের প্রধান বিচারপতি নিজামুল হক বলেন, প্রতিবেদক হাসানের দোষ স্বীকার এবং ভুলের ব্যাখ্যাসহ পত্রিকার প্রথম পাতায় সংবাদ প্রকাশের অঙ্গীকারের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত বিষয়টিকে ভুল হিসেবে বিবেচনা করছে।
ফোকাস বাংলা ॥ ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘একতরফা’ নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করেছে চীন। ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংককে লক্ষ্য করে প্রণীত একটি নতুন আইনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা স্বাক্ষরের পর বেইজিং এ বিরোধিতা করলো। তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে এমন অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও কানাডা গত নভেম্বরে ইরানের ওপর আরো অবরোধ আরোপের ঘোষণা দেওয়ার পর ওয়াশিংটন এ পদক্ষেপ নিয়েছে। তেহরান অবশ্য এসব অভিযোগ প্রত্যাখান করে বলেছে, পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেবল চিকিৎসা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার করা হচ্ছে। আর চীন বারবার বলে আসছে, কেবল নিষেধাজ্ঞায় সমাধান আসবে না।
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ আরোপ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হং লী বলেন, ‘চীন একজনের আন্তর্জাতিক আইনের ওপরে অভ্যন্তরীণ আইন প্রয়োগ ও অন্যান্য দেশের বিরুদ্ধে একতরফা অবরোধ আরোপের বিরোধিতা করছে।’
ফোকাস বাংলা ॥ আদালতের নির্দেশে হাজির না হওয়ায় অবমাননার দায়ে সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট ফেইসবুকে প্রধানমন্ত্রীর ‘মৃত্যু কামনা’ মামলায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. রুহুল আমিনকে ছয় মাসের কারাদ- দিয়েছেন হাইকোর্ট। গতকাল বুধবার বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। একই সঙ্গে আদালত ঐ শিক্ষককে গ্রেপ্তার ও জেলে পাঠানোর ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে পুলিশের মহাপরিদর্শককে নির্দেশ দিয়েছেন। তবে তার বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যু কামনা বিষয়ে এ দিন আদেশ দেয়নি হাইকোর্ট।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আলতাফ হোসেন জানান, ব্যক্তিগতভাবে হাজির না হয়ে আদালত অবমাননা করায় তাকে ছয় মাসের কারাদ- দিয়েছে আদালত। তার মূল রুলের বিষয়ে হাইকোর্ট পরে রায় দেবে। আদালত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে রুহুল আমীনের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বলেছে। আর তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ মহা পরিদর্শককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত রুহুল আমীন যাতে আত্মসমর্পণ করতে পারেন, সেজন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। আদালতের রায়ের বিষয়টি অস্ট্রেলিয়া সরকারকে জানিয়ে তাকে ফেরত পাঠাতেও অনুরোধ জানাতে বলা হয়েছে মন্ত্রণালয়কে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৩ আগস্ট মানিকগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় চলচ্চিত্র পরিচালক তারেক মাসুদ ও এটিএন নিউজের প্রধান নির্বাহী মিশুক মুনিরসহ পাঁচজনের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যু কামনা করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন রুহুল আমিন।
ফোকাস বাংলা ॥ সুন্দরবনের কালাবগী এলাকার দোবাষিশ খালে র্যাব- কোস্টগার্ড ও বনদস্যুর মধ্যে ৩ ঘন্টাব্যাপী বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বনদস্যু কাশেম বাহিনীর প্রধান কাশেম ও অভিজিৎ বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ডকে আটক করেছে র্যাব ও কোস্টগার্ড। পরে দস্যুবাহিনীর আস্তানা থেকে পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। র্যাব-৬ ও কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন জানায়, পশ্চিম সুন্দরবেনর কালাবগী এলাকার দোবাষিশ খালে গতকাল বুধবার দুপুরে দুর্ধর্ষ বনদস্যু গাজী আবুল কাশেম ওরফে কাশেম বাহিনী ও অভিজিৎ বাহিনী ডাকাতিকালে র্যাব-কোস্টগার্ড সদস্যরা খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালায়। অভিযানকারীরা ওই এলাকায় পৌছালে দস্যুরা অভিযানকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে প্রায় ৩ ঘন্টা ধরে চলে বন্দুক যুদ্ধ একশ’ ২০ রাউন্ড গুলি বিনিময় হয়। বন্দুকযুদ্ধের এক পর্যায়ে দস্যু বাহিনী প্রধান কাশেম ও অভিজিৎ বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ডকে আটক করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে ইংল্যান্ডের তৈরি একটি পয়েন্ট টু টু বোর, পাঁচটি এক নালা বন্দুক উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও সুন্দরবনে অভিযান চলছে।
মেজবাহউদ্দিন মাননু ॥ সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটার সৌন্দর্য বর্ধনকারী তালবাগানটি এখন হারিয়ে গেছে। সৈকতের জিরো পয়েন্ট লাগোয়া পশ্চিম দিকটায় এক সময় শত শত তাল গাছ ছিল। বিগত ৭/৮ বছরে রাক্ষুসে সাগর প্রায় গিলে খেয়েছে। সর্বশেষ দু’দিন আগেও সারিবদ্ধভাবে চারটি তাল গাছ দাড়িয়ে সৌন্দর্য ছড়িয়ে রেখেছিল। যেন কালের স্বাক্ষী হিসাবে ছিল এই চারটি তাল গাছ। কিন্তু গতকাল বুধবার বিকালে গিয়ে দেখা গেল দু’টি তালগাছ কে বা কারা কেটে নিয়ে গেছে। এখনও পড়ে আছে কাটা অংশ আর দু’টি গোড়া। মনোরম স্পটটি ধ্বংসের তান্ডব হিসাবে পড়ে আছে দুটি গাছের গোড়া। সংলগ্ন শুটকি পল্লীর কেউ যেন ভয়ে স্বীকার করল না কে বা কারা দু’টি গাছ কেটেছে। তবে ধারনা করা হচ্ছে প্রভাবশালী কেউ গত মঙ্গলবার রাতে কিংবা সকালে গাছ দু’টি কেটেছে। মাঝখানের গাছ দু’টি কেটে ফেলা হয়েছে। পাশের দু’টিও কাটার পরিকল্পনা চলছে বলে জানা যায়। পর্যটক আমিনুল ইসলাম জানালেন, এই পয়েন্টের তাল গাছ ক’টি তাদের কাছে স্মৃতি বিজড়িত। তাল গাছে ঠেস দিয়ে বহু পর্যটক দর্শনার্থী ছবি তুলে থাকে। কিন্তু পরিবেশ বিনাশী চক্র সেই সৌন্দর্য একেক করে ধ্বংস করে দিচ্ছে। সরকারিভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ পর্যটক দর্শনার্থীর। এব্যাপারে কুয়াকাটা বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতি, কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক ও কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী জানান, ইতোপূর্বে স্থানীয় একটি চক্র কাটার প্রস্তুতি নিয়েছিল। তখন তাদেরকে নিষেধ করা হলে মুচলেকা দেয়। তবে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। বহু পর্যটক জানান, এই তালগাছ চারটিকে সামনে রেখে সূর্যাস্তের মনোরম ছবি তোলার দৃশ্য সত্যিই অপূর্ব। আর সেই সৌন্দর্য নষ্ট যারা করছে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। এই তালগাছকে স্বাক্ষী রেখে পর্যটক দর্শনার্থীরা ছবি তুলত। নিজেদের স্মৃতির পাতা সমৃদ্ধ করত।