উদ্ভোধনের অপেক্ষায় দেশের প্রথম খড়-কুটা ভিত্তিক বায়োগ্যাসে বিদ্যুৎ

স্টাফ রিপোর্টার 3
পটুয়াখালী বার্তা, পটুয়াখালী

তারিখ: ২০১৬-০৮-০৪ | সময়: ০৮:৩৩:১৪


বার্তা রিপোর্ট ॥ দেশের প্রথম খড়-কুটা ভিত্তিক বায়োগ্যাস প্লান্ট । এই প্যান্ট থেকে উৎপাদিত হবে ৫০০ ঘনমিটার বায়োগ্যাস। উৎপাদিত এই গ্যাস দিয়ে আবার উৎপাদিত হবে ৮০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ। শুধু তাই নয়- এই বায়োগ্যাস প্লান্টে ব্যবহৃত যে জৈব প্রযুক্তি, তা দিয়ে আবার উৎপাদিত হবে উন্নতমানের জৈব সার। এক সাথে ‘প্রথম’ এই কর্মজজ্ঞতা চলছে এশিয়ার সর্ববৃহৎ বীজ বর্ধন খামার পটুয়াখালী দশমিনা উপজেলার চর বাঁশবাড়িয়ায়।
চীনের একটি প্রতিষ্ঠানের সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ মেশিন টুলস্ ফ্যাক্টরি লিমিটেড প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে। ইতোমধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। এখন শুধু উদ্বোধনের অপেক্ষায়।
প্রতিকূলতা সহিষ্ণু বীজ এবং দক্ষিন উপকূল এলাকার জন্য উপযোগি অন্যান্য শস্যবীজ উৎপাদন করে কৃষকের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার চর বাশঁবাড়িয়ায় দেশের সর্ববৃহৎ বীজ বর্ধন খামার গড়ে তোলা হয়। বাঁশবাড়িয়ার তিনটি চরের (একত্রে সংযুক্ত) ১ হাজার ৪৪ একর জমি উপর প্রায় ২৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এ খামার প্রকল্পের যাত্রা শুরু হয়। ২০১৩ সালের ১৯ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন।
পরবর্তীতে বিচ্ছিন্ন এই দ্বীপচরের খামারের উৎপাদিত বীজ প্রাথমিক প্রক্রিয়াজাতকরণ, গুদাম, ভবন, ডরমেরিটি, লেবার সেট, যন্ত্রপাতি মেরামতের ওয়ার্কশপসহ বিভিন্ন কাজে বিদ্যুতের প্রয়োজনীয়তায় এখানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বায়্গ্যোস প্লান্ট স্থাপনসহ বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়।
২০১৪ সালের ২৭ ডিসেম্বর এই প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব পান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ মেশিন টুলস্ ফ্যাক্টরি লিমিটেড, গাজীপুর। খামারের ভিতরেই ৪০ হাজার ৮০৪ বর্গফুট আয়তনের জমির উপর এই প্রকল্পে ৫০০ ঘন মিটার বায়োগ্যাস উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন প্লান্ট স্থাপনসহ বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি স্থাপনের কার্যাদেশ পেয়ে প্রতিষ্ঠানটি প্রকল্প বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু করেন। এই প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ কোটি ৪৯ লাখ ৬৩ হাজার ৭৪৩ টাকা।
প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মো, তাসির হিসমী বলেন, চীনের ‘বসিমা’ কোম্পানির সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে বাংলাদেশে এই প্রথম খড়কুটা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। চীন থেকে ছয় জন প্রকৌশলী এখানে তিন মাস কাজ করেছেন। ২০১৬ সালের জুন মাসে প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে।
খামারে উপ-সহকারী প্রকৌশলী বিশ্বজিৎ সিকদার বলেন, প্রথমে প্লান্টে প্রসেসিং ইউনিটে খড়কুটা দেওয়া হবে। এখানে খড়কুটা ছোট ছোট টুকরো হয়ে অপর একটি চেম্বারের ডাইজেষ্টারের মাধ্যমে গ্যাস হয়ে অপর দুইটি গ্যাস চেম্বারে জমা হবে। সেখান থেকে গ্যাস পরিশোধনের জন্য শোধনাগার চেম্বারে জমা হবে। পরে গ্যাস শোধন হয়ে পিউর গ্যাস চেম্বারে যাবে। এই পিউর গ্যাস দিয়ে জেনারেটর চালু হবে।
তিনি বলেন, এই প্লান্টে দুইটি জেনারেটর রয়েছে। একটি থেকে ৫০ কিলোওয়াড ও অপরটি থেকে ৩০ কিলোওয়াড মোট ৮০ কিলোওয়ার্ড বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে এবং উৎপাদিত বিদ্যুৎ থেকে খামারের বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ হবে। এছাড়াও নিরবিছিন্ন বিদ্যুতের জন্য এই প্লান্টের চেস্বারে ৩০০ ঘনমিটার পিউর গ্যাস জমা থাকবে।
তিনি আরো জানান, তাদের এই বায়োগ্যাস প্লান্টে প্রতিদিন দেড়টন কড়কুটার প্রয়োজন হবে। খামারে বীজ উৎপাদনের পর যে খড়কুটা থাকেবে তা দিয়েই বায়োগ্যাস প্লান্ট সচর রাখা যাবে। এছাড়াও গ্যাস উৎপাদনের প্রসেসিং হওয়া খড়কুটা পরবর্তীতে উন্নত মানের জৈব সার হিসেবে খামারের জমিতে ব্যবহৃত হবে।
বীজ বর্ধন খামারের প্রকল্প পরিচালক মো, আলমগীর মিঞা প্রথম আলোকে বলেন, খড়কুটা ভিত্তিক বায়্গ্যোসে বিদ্যুৎ উৎপাদন দেশে এই প্রথম। নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। খামারের খড়কুটা দিয়ে গ্যাস-বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। এতে খামারে প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের চাহিদা মেটাবে পাশাপাশি প্লাটে ব্যবহৃত খড়কুটা পরে উন্নত জৈব সার হিসেবে খামারে ব্যবহৃত হবে। এতে খামারে সারের চাহিদাও কমবে। তিনি বলেন, খুব শীঘ্রই চীন থেকে বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীদের একটি দল আসবে এবং তারা আসলেই এই প্রকল্পটি উদ্বোধন হবে বলে জানান তিনি।





Comment Disabled

Comments