May 27, 2024, 5:59 am
শিরোনাম :
পটুয়াখালীর উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় “রেমাল” এর অগ্রভাগ দলীয় শৃঙ্খলা লঙ্ঘন, পটুয়াখালী সদর উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতিকে কারন দর্শানোর নোটিশ জলোচ্ছাসে প্লাবিত হতে পারে পটুয়াখালীর উপকূলীয় অঞ্চল, ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত নিম্নচাপের প্রভাবে পটুয়াখালীতে বৃষ্টি, তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত পায়রা বন্দর থেকে ৪৯০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে গভীর নিম্নচাপটি ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় রেমাল, আঘাত হানবে বাংলাদেশ ও ভারতে আচরন বিধি লঙ্ঘন, দুমকিতে চেয়ারম্যান প্রার্থী হারুন অর রশিদ হাওলাদারকে শোকজ বাউফলে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শিক্ষার্থীর মৃত্যু দুমকিতে মোশাররফ হত্যায় জড়িত আসামিদের ফাঁসির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন ইউনিভার্সিটি অফ গ্লোবাল ভিলেজের শিক্ষার্থীদের পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিদর্শন

পটুয়াখালী: ভিটা মাটি ছাড়ার আতঙ্কে ৩০ পরিবার

পটুয়াখালী অফিস:

পটুয়াখালীর বাউফলের ধুলিয়া ইউনিয়নের ঘুরচাকাঠী গ্রামে ৩০টি সংখ্যালঘু পরিবার ভিটে মাটি ছাড়ার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। জমি দখলের হুমকি দিয়ে ভিটামাটি থেকে উচ্ছেদের পায়তারা করছে স্থানীয় বাসিন্দা হারুন কারী ও তার পরিবারের লোকজন ।

জানা গেছে, ঘুরচাকাঠী গ্রামে দীর্ঘকাল ধরে অর্ধশত হিন্দু পরিবার বসবাস করে আসছেন। এসব হিন্দু পরিবারের জমিজমা, ভিটে মাটি দখলে নিতে বেপরোয়া হয়ে উঠে স্থানীয় বাসিন্দা হারুন কারী ও তার পরিবারের লোকজন। এর আগে ২০২১ সালে স্থানীয় বাসিন্দা নরেন রক্ষিতকে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রায় ৩ একর জমির দলিল বা পাওয়ার অব অ্যাটর্নি নেয় হারুন কারী ও তার ভাই কাদের কারী। এরপর থেকে ওই এলাকার হিন্দু পরিবার গুলোর জমি দখলের মিশনে নামে হারুন কারী। হিন্দুদের বসতবাড়ী ফসলি জমিজমা ভূয়া কাগজপত্র তৈনি করে বিভিন্ন মানুষের কাছে বিক্রি করতে শুরু করেন তিনি।

শিউলী রাণী ওঝা নামে এক ভুক্তভোগী বলেন,‘ নদী ভাঙনে ভিটে মাটি সব হারিয়েছি। ২১ বছর আগে ঘুরচাকাঠী গ্রামে কিছু জমি কিনে ঘরবাড়ি করে বসবাস করে আসছি। গত বছর হারুন কারী আমাদের বাড়ি ছাড়ার হুমকি দিয়ে ৫০ হাজার টাকা নিয়েছেন। কয়েকদিন আগে আবারও বাড়ি এসে হুমকি দিয়ে দেড় লাখ টাকা দাবি করেছেন।

সুনিল রক্ষিৎ নামে আরেক ভুক্তভোগী বলেন, ‘আমার পৈত্রিক সম্পত্তি। যুগ যুগ ধরে আমরা ভোগদখল করে আসছি। হারুন কারী ভূয়া ওয়ারিশ নামা দিয়ে নরেন রক্ষিতের কাছ থেকে জোর করে পাওয়ার নিয়ে আমাদের ঘর বাড়ি জমি জমা দখল নিতে চায়।

চয়ন কুমার লিটন রক্ষিত বলেন, ‘ দীর্ঘদিন ধরে হারুন কারী হিন্দুদের জমিজমা দখলে নেওয়ার পায়তারা করে আসছিলেন। তিন বছর আগে তৎকালীন চেয়ারম্যান, মেম্বার ও গ্রাম পুলিশকে ম্যানেজ করে একটি ভূয়া ওয়ারিশ সনদপত্র বের করেন। সেই ভূয়া বানোয়াট ওয়ারিশ সনদ দিয়ে নরেন রক্ষিতের কাছ থেকে জোর করে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি নেন। পাওয়ার অব অ্যাটর্নি নেওয়ার পর নরেন রক্ষিতকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করেন। এরপর থেকে হিন্দুদের জমি দখলে মরিয়া হয়ে উঠে হারুন ও তার পরিবার। হিন্দু পাড়ার সুভাষ রাঢ়ী, করুন বৃত ঘরামী, আরতী রানী, বিমল হাওলাদার, খুকু রানী, কল্পনা রানী সহ প্রায় ৩০টি পরিবার হারুন কারীর অত্যাচার নির্যাতনের শিকার।

এ ব্যাপারে হারুনকারী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “ঐসব সম্পত্তি আমি বৈধ ভাবে ক্রয় করেছি। আমার ভাবমূর্তি বিনষ্ট করতে একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে।”

ধুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ন কবির বলেন, ‘সাবেক চেয়ারম্যান হারুনকারকে একটি ওয়ারিশ সনদপত্র দিয়েছিলেন। কিন্তু বিষয়টি আমি জানার পরে গ্রামে তদন্ত করে সঠিক ওয়ারিশ সনদপত্র দিয়েছি।’

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ বশির গাজী বলেন, ‘৩০ টি পরিবারের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টির তদন্ত করে দেখা হবে।’

বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শোনিত কুমার গায়েন বলেন, ‘সরেজমিনে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলার অবনতি যাতে না ঘটে সে বিষয়ে পুলিশের নজরদারি হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা