ক্ষতিপুরনের বইসহ ৩০০ চেক উদ্ধার কুয়াকাটায় বেড়িবাঁধ পুনঃনির্মাণ প্রকল্পের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনের চেক বিতরনে দুর্নীতি ॥

atikul Alam
পটুয়াখালী বার্তা, পটুয়াখালী

তারিখ: ২০১৮-০৯-২৬ | সময়: ০৮:৪৭:৫৬

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলাপাড়া, ২৬ সেপ্টেম্বর ॥ কুয়াকাটায় উপকুলীয় বাঁধ পুনর্বাসন প্রকল্পের (সিইআইপি-১) বন্যানিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ পুনঃনির্মাণ ও মেরামত কাজে ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে উৎকোচ বাবদ হাতিয়ে নেয়া তিন শ’ চেক উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে মধ্যস্বত্ত্বভোগী চক্রের হোতা পান্না মোল্লার কাছ থেকে এই চেক উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ইতোপুর্বে যাদেরকে এ চেক বিতরন করা হয়েছে তাদের কাছ থেকেও বিপুল পরিমান অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ প্রকল্পের দুই পোল্ডারের ৪৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের স্লোপে বসবাসকরা ক্ষতিগ্রস্ত ৮৩০ পরিবারকে ক্ষতিপুরনের আওতায় আনা হয়েছে। ক্ষতিপুরনের জন্য পাওয়া অর্থের ১০-১২ ভাগ টাকা আদায়ে নামে এ চক্র। ক্ষতিপুরনের কার্ড আটকে মানুষের ব্যক্তিগত একাউন্টের সই সংবলিত চেক হাতিয়ে নেয় এচক্র। এর সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। ফলে সাধারণ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ পড়েছেন জিম্মি দশায়।
উপকূলীয় বাঁধ পুনর্বাসন প্রকল্পের (সিইআইপি-১) উদ্যোগে সাড়র ঘেঁষা পর্যটন এলাকা কুয়াকাটার ৪৮ নম্বর পোল্ডারের প্রায় ৩৮ কিমি এবং ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের ৪৭/২ পোল্ডারের ১৭ কিমি বন্যানিয়ন্ত্রন বেড়িবাঁধ পুনঃনির্মাণসহ মেরামতের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে ডালবুগঞ্জ এলাকার কাজ শেষের পথে। দুই পোল্ডারের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৮৩০ জন। যার মধ্যে ডালবুগঞ্জ এলাকার (এক কোটি ৫০ লাখ ৩০৮ টাকা) ১৫৭ জনের চেক আগেই হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি কুয়াকাটাসহ লতাচাপলী ও ধুলাসারের ৬৭৩ জনের চেক বিতরন কাজ শুরু হয় একদিন আগে। যেখানে ক্ষতিপুরন বাবদ সাত কোটি ৩১ লাখ ৬৫ হাজার ৬৩৭ টাকা নির্ধারন করা হয়েছে। কিন্তু এই টাকা উত্তোলনের জন্য এলাকার জনপ্রতিনিধিসহ পরিচিতজনকে কার্টিজ পেপারে স্বাক্ষী হিসেবে সই করতে হয়েছে। আর এখানেই শুরু বাণিজ্য। করা হয জিম্মি। ক্ষতিগ্রস্ত অসংখ্য মানুষের অভিযোগ ১০-১২ পারসেন্ট হিসেবে আগেভাগেই প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্তরা ক্ষতিগ্রস্তদের বই দালালচক্রদের হাতে দিয়ে দেয়। যা দেয়ার কথা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে। এমন একজন পান্না মোল্লা। তিনি অন্তত ৩০০ বই আটকে মানুষের কাছ থেকে ব্যক্তিগত ব্যাংক একাউন্টের সই সংবলিত অন্তত তিন শ’ চেক হাতিয়ে নেয়। একেকটি চেকে পাচ থেকে ২০/৩০ হাজার টাকার অংক লেখা রয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে কুয়াকাটার মেয়র মঙ্গলবারের চেক বিতরণ বন্ধ করে দেন। ফেরত দেয়া হয় অধিকাংশ চেক। লতাচাপলীর ইউপি মেম্বার আবুল কাজী জানান, তিনি পান্না মোল্লার কাছ থেকে ১২৩টি চেক এবং নগদ ২৩ হাজার টাকা এনে মানুষকে ফেরত দিয়েছেন। ভুক্তভোগী নজরুল ইসলাম জানান, তার কাছ থেকে কার্ড আটকে ১৫ হাজার টাকার চেক নেয় পান্না মোল্লা। মোঃ আলী খান জানান, তার কাছ থেকে নেয়া হয়েছিল পাঁচ হাজার টাকার চেক। শত শত মানুষ বুধবার দুপুরে পাউবো অফিসে চেক নিতে এসে এমন আর্থিক লুটপাটের অভিযোগ করেন। প্রকল্পের একাধিক পরামর্শক বলেছেন এ ঘটনায় তাঁদের সংশ্লিষ্টতা নেই। পুনর্বাসন বিশেষজ্ঞ মোঃ কাইয়ুম জানান, কার্ড ইস্যু এবং শনাক্তকরনের জন্য চেয়ারম্যান/মেম্বারের সই প্রয়োজন। তাঁদের কাছেই কার্ড দেয়া হয়েছে। তবে লতাচাপলীর চেয়ারম্যান আনসার উদ্দিন মোল্লা জানান, তাঁর কাছে কার্ড দেয়া হয়নি। পান্না মোল্লার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া গেছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তানভীর রহমান জানান, বিষয়টি শুনে তিনি সরেজমিন পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মতে আইনানুগ ব্যবস্থার পদক্ষেপ নিয়েছেন। বুধবার বিকেল পাঁচটায় এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে পাউবো কলাপাড়ার কার্যালয়ে চেক বিতরন কাজ চলছে।
কলাপাড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী অফিস সুত্রে জানা গেছে, সাগরঘেঁষা লতাচাপলী ও ধুলাসার দুই ইউনিয়সহ কুয়াকাটা পৌরএলাকার রক্ষাকবচ ৩৮ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ আধুনিকভাবে বন্যা কিংবা জলোচ্ছ্বাস প্রতিরোধের মতো করে পুনঃনির্মাণ করা হবে। বাঁধটির উচ্চতা দেড় মিটার (পাঁচ ফুট) উচু করা হবে। সম্পুর্ণ বাঁধটির পাদদেশ বর্তমানের চেয়ে আরও ৩৫ ফুট প্রশস্ত করা হবে। বাঁধটি প্রায় ১২০ ফুট প্রস্থ করা হচ্ছে। এছাড়া সিসি ব্লক প্লেসিং করে রিভার সাইটে এক মিটার উচু করলে পাঁচ মিটার স্লোপ থাকছে। একই ভাবে কান্ট্রি সাইটে এক মিটার উচ্চতায় দুই মিটার স্লোপ থাকবে। বাঁধটির আধুনিকায়নের মধ্যে টপে পর্যটকের ভ্রমনের জন্য ওয়াকিং জোন থাকছে। এর পাশে নির্দিষ্ট দুরত্বে থাকবে বড় ধরনের বেঞ্চি টাইপের সিসি ব্লক। যেখানে বসে আগতরা জমিয়ে আড্ডার পাশাপাশি স্বল্পকালীন বিশ্রামও নিতে পারবেন। এক কথায় দীর্ঘ বাঁধটি হবে দৃষ্টিনন্দন। এজন্য বিশ^ ব্যাংক ইতোমধ্যে ১৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এই বাঁধের স্লোপে বসবাস করা জেলেসহ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ঘরসহ দোকানপাট কিংবা অবকাঠামো অপসারনের জন্য সরকারের নির্দেশনায় ক্ষতিপুরন দেয়া হয়।





Comment Disabled

Comments