পটুয়াখালী সরকারী কলেজে ছাত্রলীগের দু পক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষ ॥ গোয়েন্দা পুলিশসহ আহত ১০


পটুয়াখালী বার্তা, পটুয়াখালী

তারিখ: ২০১৮-০৯-২২ | সময়: ০৭:৪৭:৩৮

পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীতে বঙ্গবন্ধু ও প্রধান মন্ত্রীর ছবি ছেড়াকে কেন্দ্র করে পটুয়াখালী সরকারী কলেজ ছাত্রলীগের মধ্য কয়েক দফা রক্তক্ষয়ী সংর্ঘষের ঘটনা ঘটেছে। এঘটনায় বিশেষ গোয়েন্দা পুলিশের এক সদস্য এবং কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদকসহ অন্তত দশ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে গুরুত অবস্থায় একজনকে বরিশাল শের-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এদিকে পরবর্তী সহিংসতা এড়াতে সরকারী কলেজ এবং পটুয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল চত্বরসহ শহরের বেশ কয়েকটি পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে।
পটুয়াখালী সরকারী কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি বেলাল সিকদার রিয়াজ ও সাধারন সম্পাদক আবুল বশার আরজু অভিযোগ করে জানান, সরকারী কলেজের মুল ফটকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও প্রধান মন্ত্রীর ছবি ও ব্যানার প্রদর্শন করে কলেজ ছাত্রলীগ। রাতে জামায়াত-শিবির সমর্থীত ছাত্ররা সেই ছবি ও ব্যানার ছিড়ে ফেলে। এর জের ধরে শনিবার সকালে কলেজের সাধারন ছাত্ররা কলেজ প্রাঙ্গনে বিক্ষোভ করার উদ্যোগ নিলে জামায়াত-শিবির সমথীর্তরা বিক্ষোভে বাধা প্রদান করে। এসময় উভপক্ষের মধ্য বাক-বিতন্ডার একপর্যায়ে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মইন খান চানুর নেতৃত্বে সংঘর্ষ বাধে। এসময় কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি রিয়াজ ও সাধারন সম্পাদক আরজু এবং ছাত্র সুমন আহমেদ ওরফে ড্যান্স সুমন এবং আল-আমিনসহ ৫/৬ জন আহত হয়। এসময় এক পুলিশ সদস্যকে ছবি তুলছে কেন তার জেরে চানুর লোকজন মারধোর করে। এদিকে ছাত্রলীগের মধ্যে মারধরের ঘটনার তথ্যচিত্র ধারন করতে গিয়ে পটুয়াখালী বিশেষ গোয়েন্দা পুলিশের সদস্য মোঃ জামাল উদ্দিন (৩০) হামলার শিকার হয়। এ হামলায় পুলিশ সদস্যের ডান কান থেকে প্রচুর রক্তক্ষরন হয়। তবে পুলিশ সদস্য জামালকে কোন পক্ষ হামলা করেছে তা নিশ্চিত করা যায়নি। খবর পেয়ে পুলিশের কয়েকটি দল ঘটনাস্থলে পৌছে। এসময় হামলাকারীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
এদিকে আহত কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি রিয়াজ, সাধারন সম্পাদক আরজু এবং সাধারন ছাত্র সুমনসহ কয়েকজন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে জরুরী বিভাগে তাদের মধ্যে পুনরায় সংর্ঘষ বাধে। এসময় বিক্ষুদ্ধ ছাত্রদের মহড়া এবং ধস্তাধস্তির ঘটনায় হাসপাতালের জরুরী বিভাগসহ গোটা মেডিকেল ক্যাম্পাসে আতংক ছড়িয়ে পরে। দিকবিদিক ছোটা-ছুটি করে সাধারন রোগীরা। এসময় আরো কয়েক ছাত্র কম-বেশি আহত হয়। তারা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছে। পরে পুলিশের কয়েকটি দল হাসপাতাল চত্বরে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এসময় বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা স্থান ত্যাগ করে। পরিস্থিতি শান্ত হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ছাত্রলীগ নেতা রিয়াজ ও আরজুকে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন এবং উন্নত চিকিৎসা ও পরবর্তী সহিংসতা এড়াতে সুমনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করেন। তবে এ রির্পোট লেখা পর্যন্ত হাসপাতাল ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন দেখা গেছে এবং সদর থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এদিকে ঘটনার পর দুপুর দুইটার দিকে সরকারী কলেজ চত্বরে বহিরাগতদের মহড়া দেখা গেছে। এঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্য আতংক ছড়িয়ে পরেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে পুলিশের কয়েকটি দল কলেজ চত্বরে টহলসহ উপস্থিত রয়েছে। এদিকে ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মইন খান চানুর বিরুদ্ধে করা অভিযোগ অস্বীকার করে জানান,ছাত্রলীগ পরিকল্পিত ভাবে একটি ই্যসু তৈরী করে এ সংর্ঘষে লিপ্ত হয়েছে। আমি বা আমার কোন লোক বঙ্গবন্ধু ও প্রধান মন্ত্রীর ছবি ছিরে নাই। পটুয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হাসান সিকদার ও সাধারন সম্পাদক ওমর ফারুক ভুইয়া জানান, কোন ধরনের উস্কানি ছাড়াই জামায়াত বিএনপির ক্যাডাররা কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কে আহত করেছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত এবং দৃষ্টান্ত মূলক বিচার দাবী করছি। এ সময় তিনি ছাত্রলীগ নেতা কর্মীদের শান্ত থাকার আহবান জানান। সদর থানার ওসি খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রয়েছে এবং পরবর্তী সহিংসতা এড়াতে কলেজ, হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে।





Comment Disabled

Comments