বরক্ত মাখা ছুরি দুই খন্ড কাটা মাংস উদ্ধার ॥ রক্তে ভেজা ঘরের ফ্লোর ॥ সাগরপারের কলাপাড়ায় এবার মহিপুর হাই স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রীকে হত্যার পর লাশ গায়েব ॥


পটুয়াখালী বার্তা, পটুয়াখালী

তারিখ: ২০১৮-০৯-১৯ | সময়: ০৭:৩৭:৩৬

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলাপাড়া, ১৯ সেপ্টেম্বর ॥ এবার পূর্ব আলীপুর গ্রামে নবম শ্রেণির ছাত্রী মরিয়মকে খুনের পর লাশ গুম করা হয়েছে। পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নের এ ঘটনায় মানুষ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। মরিয়মের ঘুমানের ঘর থেকে পুলিশ রক্তমাখা দু’টি ছুরি, রশি। তাঁর ব্যবহৃত পায়ের নুপুরসহ দুই টুকরো কাটা মাংস উদ্ধার করেছে। রক্তে লাল হয়ে আছে ঘরের এবং বারান্দার ফ্লোর। কিন্তু ওই ছাত্রীর জীবন্ত কিংবা মৃতদেহের কোন হদিস মেলেনি। লোমহর্ষক এ ঘটনাটি বুধবার ভোর রাতে মরিয়মের পরিবারের লোকজন জানতে পারে। তাদের দাবি ধর্ষণ শেষে নৃশংসভাবে হত্যা করে লাশ গুম করা হয়েছে।
মহিপুর থানা পুলিশ ও ছাত্রীর পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতের খাবার খেয়ে মৃত জেলে বাবুল মল্লিকের স্ত্রী নুরজাহান বেগম (৪০) শিশুছেলে হামিম (৩) ও মেয়ে মহিপুর কো-অপারেটিভ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মরিয়মকে (১৫) নিয়ে এক খাটে ঘুমায়। ঘরের দোতলায় নুরজাহানের বড় মেয়ে রেশমা (১৯) ও মেয়ে জামাই মাঈনুল ঘুমিয়ে ছিল। রাত তিনটার দিকে রেশমা প্রকৃতির ডাকে সারা দিতে বাইরে নমে। তখনও ঘরে ফেরার সময় ছোট বোন মরিয়মের সঙ্গে কথা বলেছে। এরপর ভোর আনুমানিক চারটায় মা নুরজাহান বেগমের আর্তচিৎকারে ঘরের সকলের ঘুম ভাঙ্গে। মরিয়মকে না পাওয়া এবং ঘরের বিভিন্ন জায়গা রক্ত দেখে সবাই ডাকচিৎকার করলে পড়শিরা এগিয়ে আসে।
খবর পেয়ে বুধবার সকাল সাড়ে ৫টায় ঘটনাস্থলে যায় মহিপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহবুবুর রহমানসহ একদল পুলিশ। তিনি বলেন, রক্ত মাখা দু’টি ছুরি ও মরিয়মের ব্যবহৃত পায়ের নুপুর এবং দুই টুকরো মাংস ঘরের মেঝেতে পাওয়া গেছে। জীবিত বা মৃত কোনভাবেই মেয়েটির সন্ধান পাওয়া যায়নি। ঘরের বেড়াসহ বিভিন্ন স্থানে রক্তে ভেসে গেলেও পরিবারের কেউ টের না পাওয়ার বিষয়টিও রহস্যজনক। তবে রক্ত দেখে মনে হচ্ছে হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটতে পারে। সকাল ১০টায় পটুয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. মঈনুল হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান, কলাপাড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জালাল উদ্দিনসহ উর্ধতন কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেছেন। পুলিশের ধারনা খুনের পরে লাশ গুম করা হতে পারে। তবে ঘটনা যাই ঘটুক না কেন প্রকৃত ঘটনা অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, মরিয়মকে দুর্বৃত্তরা হত্যা করে লাশ গুম করেছে। তাদের মতে, রেশমা রাতে ঘরের দরজা খুলে বাইরে আসার সুযোগে দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে লুকিয়ে ছিল। সুযোগ বুঝে খুনের মিশন সম্পন্ন করেছে। পুলিশি থানা মহিপুরে সম্প্রতি একই স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ইভাকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়। দিনের বেলা ধুলাসার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী তুলিকে স্কুল ক্যাম্পাসে ছুরিকাঘাতে হত্যা চেষ্টা চালানো হয়। আগে চুরি-রাহাজানির মতো অসংখ্য ঘটনায় মানুষ এখন রাত কাটায় আতঙ্কে, বিনিদ্র। এরপরে মরিয়ম রহস্যজনকভাবে খুনের পরে লাশ গুমের আতঙ্ক দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় মানুষ চরম আস্থাহীনতায় রয়েছে।





Comment Disabled

Comments