২২ নং দক্ষিন বলইবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় একজন শিক্ষক দিয়ে চলছে স্কুলটি


পটুয়াখালী বার্তা, পটুয়াখালী

তারিখ: ২০১৮-০৯-১৯ | সময়: ০৭:১১:৩১

প্রতিনিধি পটুয়াখালীঃ স্কুলটির নাম ২২ নং দক্ষিন বলইবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। যেখানে শিক্ষক মাত্র একজন । ছাত্রছাত্রী রয়েছে ১১১ জন। এই একজন শিক্ষককে শিক্ষার্থীদের পাঠদানসহ স্কুলের দাপ্তরিক কাজ, মাসিক সভায় যোগদান করতে হচ্ছে। একজন শিক্ষকের পক্ষে ১১১ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান করা অসম্ভব হয়ে পরেছে। এতে করে শিক্ষার গুনগতমান অর্জন তো দুরের কথা ‘নামের শিক্ষা’ পায়না এখানকার শিক্ষার্থীরা। এভাবেই এই স্কুলের পাঠদান চলছে দিনের পর দিন। এই স্কুলটি পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার গোলখালী ইউনিয়নের নলুয়াবাগী গ্রামে। গত রোববার সরেজমিন স্কুলে গিয়ে দেখা যায় স্কুল একতলা পুরোনো স্কুল ভবনটি জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ১৯৪৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই স্কুলটি ১১৯৯ সালে এই একতলা নতুন ভবন নির্মাণ হয়। দীর্ঘদিনেও সংস্কার না হওয়ায় জরাজীর্ণ ভবনেই ঝুঁকি নিয়ে চলছে পাঠদান। তবে এই স্কুলে নতুন ভবন (সাইক্লোন সেন্টার কাম স্কুল) নির্মাণের জন্য অনুমোদন হয়েছে। সকাল ৯ টা বাজার সাথে সাথে স্কুলের একমাত্র শিক্ষক উত্তম কুমার মন্ডল ঘন্টা বাজিয়ে শ্রেণি কক্ষে প্রবেশ করেছে। একটি শ্রেনি কক্ষোই শিশু , প্রথম শ্রেনি ও দ্বিতীয় শ্রেণির ৬৩ শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে বিভিন্ন বিষয়ে পাঠদান করছেন। দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. ফয়সাল বলে, এভাবে লেখাপড়া বুঝতে কষ্ট হয়। ১২ টায় স্কুল ছুটির পর সাড়ে ১২ টায় আবার তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির ৪৮ জন ছাত্রছাত্রী নিয়ে ক্লাশ শুরু করে শিক্ষক উত্তম মন্ডল। স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির প্রথম হয়েছে শাকিল হাওলাদার। শাকিল বলে, ‘এভাবে সবাইকে এক জায়গায় বসিয়ে ক্লাশ করলে লেখাপড়া ভালো হচ্ছে না। পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী রুনিয়া আক্তার বলে, বুছতে যেমন কষ্ট হয়, তেমনি লেখাপড়ায়ও পিছিয়ে পড়ছি আমরা।
রুনিয়ার পিতা নজরুল মৃধা বলেন, ‘স্কুলে শিক্ষক নাই তাই মেয়ের পড়াশোনার অনেক ঘাটতি হচ্ছে। অন্য স্কুলেও দেওয়া সম্ভব না। গত ১০ মাস ধরে শুনছি নতুন শিক্ষক আসবেন। কিন্তু কোন শিক্ষক আসেননি। মেয়ের ভবিষ্যত নিয়ে আমরা চিন্তিত। একমাত্র শিক্ষক উত্তম কুমার মন্ডল জানায়, তিনি ২০১৬ সালে প্রাক-প্রাথমিকের শিক্ষক হিসেবে এই স্কুলে যোগদান করেন। স্কুলে প্রধান শিক্ষকসহ পাঁচজন শিক্ষকের পদ থাকলেও স্কুলে শুধু প্রধান শিক্ষক মো. কামাল হোসেন কর্মরত ছিলেন। তিনি যোগদানের পর স্কুলে দুইজন শিক্ষক শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিল। ২০১৭ সালের ১৩ নভেম্বর প্রধান শিক্ষক মারা যাওয়াও পর স্কুলে তিনি একা হয়ে যায় এবং সেই থেকে দীর্ঘ ১০ মাস ধরে একা স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। প্রাক প্রাথমিকের একমাত্র শিক্ষক উত্তম কুমার শিক্ষক হিসেবে রয়েছেন এই স্কুলে। একজন শিক্ষক দিয়ে খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। ছাত্রছাত্রীদের পাঠদান, দাপ্তরিক কাজ করতে উপজেলা সদরে আসলে স্কুল ছুটি দিয়ে আসতে হয় তাঁকে। বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্যদের মো. নিজাম পাহলান বলেন, স্কুলটি দুর্গম এলাকায় অবস্থিত। একদিকে গলাচিপা, একদিকে জেলার কলাপাড়া উপজেলা ও অপরদিকে বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলা। এ তিন উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় এই স্কুলে যাতায়াতও তুলনামূলক দুর্গম। এ কারনে শিক্ষক আসতে চান না এই স্কুলে। শিক্ষক সঙ্কটের বিষয়টি আমরা একাধিকবার কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে জানিয়েছি কিন্তু শিক্ষক সংকটের সমাধান হচ্ছে না। গলাচিপা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষক সঙ্কট রয়েছে। তবে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই প্রাথমকি বিদ্যালয়গুলোতে নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দক্ষিণ বলইবুনিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করবে।





Comment Disabled

Comments