দুদকের হাজিরা থেকে অব্যাহতি চান জাপা মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার


পটুয়াখালী বার্তা, পটুয়াখালী

তারিখ: ২০১৮-০৯-১৮ | সময়: ০৮:৪২:০১

এফএনএস ॥ একইসঙ্গে রাজনৈতিক কর্মকা-ে ব্যস্ত থাকা ও অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের হাজিরা থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার। অন্যদিকে, সিটিসেলের নামে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ৩৮৩ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় দুদকের তলবে হাজির না হয়ে সময়ের আবেদন করেছেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা এম মোরশেদ খান এবং তার স্ত্রী নাছরিন খান। গতকাল মঙ্গলবার দুদক চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো চিঠিতে এইচ এম এরশাদের নেতৃতত্বাধীন জাতীয় পার্টির মহাসচিব অব্যাহতি চেয়ে আবেদন জানান বলে কমিশনের উপপরিচালক (জনসংযোগ) প্রনব কুমার ভট্টাচার্য্য জানিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি আরও জানান, বিএনপি নেতা এম মোরশেদ খান এবং তার স্ত্রী নাছরিন খান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক মো. সামছুল আলমের কাছে গতকাল মঙ্গলবার পাঠানো এক আবেদনে তারা অসুস্থতর কারণ দেখিয়ে চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিপত্র যুক্ত করেছেন। সরকারি সম্পদ আত্মসাতের মাধ্যমে শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তদন্তে রুহুল আমিন হাওলাদারকে গতকাল মঙ্গলবার হাজির হতে দুদকের উপ-পরিচালক সৈয়দ আহমেদ ১৩ সেপ্টেম্বর নোটিস পাঠিয়েছিলেন।
কিন্তু দুদকে হাজির না হয়ে গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় পার্টির মহাসচিব দুদকে যে চিঠি পাঠিয়েছেন তাতে বলা হয়েছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি কার্যক্রম হিসেবে আমাকে কর্মী সংগ্রহ, প্রার্থী বাছাইসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দলীয় কাজে অত্যান্ত ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে। সংসদ অধিবেশনেও প্রতিদিন অংশ নিতে হচ্ছে। অন্যদিকে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘ দিন ধরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্বাবধানে চিকিৎসাধীন আছি। ‘স্বাস্থ্য ঝুঁকি’ ও ‘পারিপার্শ্বিক অবস্থা’ বিবেচনা করে ‘ব্যক্তিগত উপস্থিতি ও অভিযোগ’ থেকে চিঠিতে অব্যাহতি চেয়েছেন রুহুল আমিন হাওলাদার। এবিষয়ে প্রনব কুমার ভট্টাচার্য্য বলেন, চিঠিতে যেসব কারণ উল্লেখ করা হয়েছে, সেসব বিষয়ে অনুসন্ধান কর্মকর্তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অবলম্বন করবেন। রুহুল আমিন হাওলাদারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি আমলা ও আদালতে উৎকোচ প্রদান এবং সরকারি সম্পদ আত্মসাতের মাধ্যমে শত কোটি টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে রাজউকের একাধিক প্লটের মালিকও হাওলাদার হয়েছেন বলে দুদকে অভিযোগ এসেছে। দুদক কর্মকর্তারা বলেন, জাতীয় পার্টি সরকারের অংশীদার হওয়ার সুযোগ নিয়ে হাওলাদার বিভিন্ন অবৈধ সুবিধা গ্রহণ করেছেন বলেও অভিযোগ পেয়েছেন তারা।
জানা গেছে, জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে কৃষি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন রুহুল আমিন হাওলাদার। তৎকালীন সময়ে পটুয়াখালী বন বিভাগের এম এল বন তাপসী লঞ্চটি ক্ষমতার অপপ্রয়োগের মাধ্যমে ব্যবহার করে জ্বালানীর আর্থিক ক্ষতি করেন। পরবর্তীতে তদবিরের মাধ্যমে সে মামলা থেকে নিষ্পত্তি পান। সেটি আবার পরীক্ষা নিরীক্ষা করা দরকার বলে দুদকের কর্মকর্তারা জানান।
এদিকে একজন আইনজীবীর মাধ্যমে মোরশেদ খানের আবেদন দুদকে পাঠানো হয় জানিয়ে প্রনব বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবেন। এ মামলায় এর আগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর মোরশেদ খান ও তার স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছিল দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক। সেই নোটিসে ১৮ সেপ্টেম্বর তাদের দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়েছিল। গত বছরের ২৮ জুন রাজধানীর বনানী থানায় দায়ের করা এ মামলায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোরশেদ খান, তার স্ত্রী, সিটিসেলের এমডি মেহবুব চৌধুরীসহ মোট ১৬ জনকে আসামি করা হয়। সিটিসেলের নামে এ বি ব্যাংক থেকে অনিয়মের মাধ্যমে সাড়ে তিনশ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয় আসামিদের বিরুদ্ধে। মোবাইল ফোন অপারেটর সিটিসেলের মূল কোম্পানির নাম প্যাসিফিক টেলিকম বাংলাদেশ লিমিটেড (পিবিটিএল)। এম মোরশেদ খান এর চেয়ারম্যান, তার স্ত্রী নাছরিন খানও একজন পরিচালক। মোরশেদ খান এ বি ব্যাংকেরও চেয়ারম্যান ছিলেন। বাংলাদেশের প্রথম টেলিকম অপারেটর সিটিসেল ২০১৬ সালে দেনার দায়ে বন্ধ হয়ে যায়।





Comment Disabled

Comments