দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন নিয়ে বিএসসিসিএল’র ধাপ্পাবাজি!

সিনিয়র সাব এডিটর
পটুয়াখালী বার্তা, পটুয়াখালী

তারিখ: ২০১৭-০২-২৪ | সময়: ১৩:৪১:০৮

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন কেব্লের (এসইএ-এমই-ডব্লিউই-৫)
উদ্বোধন নিয়ে ধাপ্পাবাজি শুরু করেছে বাংলাদেশ সাবমেরিন কেব্ল কোম্পানি লিমিটেড
(বিএসসিসিএল)। এসইএ-এমই-ডব্লিউই ৫ সাবমেরিন কেব্ল কনসোর্টিয়ামের তথ্য বলছে, আন্তর্জাতিকভাবে গত
১৬ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইয়ের হনলুলুতে এটি উদ্বোধন করা হয়েছে। অথচ
বিএসসিসিএল বলছে, ২১ ফেব্রুয়ারি তুরস্কে এটি উদ্বোধন করা হয়েছে।

কনসোর্টিয়ামের সদস্য হিসেবে বিএসসিসিএল এই কেব্লের সঙ্গে সংযুক্ত হতে পটুয়াখালীর
কুয়াকাটায় একটি ল্যান্ডিং স্টেশন তৈরি করেছে।

ল্যান্ডিং স্টেশন পর্যন্ত সাবমেরিন কেব্লটির সংযোগ এলেও ঢাকাসহ সারা দেশকে সংযুক্ত
করার কাজটি (ব্যাকহোলিং কেব্ল ট্রান্সমিশন) এখনো শেষ হয়নি বলে বুধবার
বিএসসিসিএলের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্বীকার করা হয়।

বিএসসিসিএল দ্বিতীয় সাবমেরিন কেব্ল উদ্বোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ডাক ও
টেলিযোগাযোগ বিভাগসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানকেই আনুষ্ঠানিকভাবে
জানায়নি বলে জানা গেছে।

অথচ ২০০৬ সালের ২১ মে কক্সবাজারে দেশের প্রথম সাবমেরিন কেব্লের ল্যান্ডিং
স্টেশনটি সরকারিভাবে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন
প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

বিএসসিসিএলের কুয়াকাটা ল্যান্ডিং স্টেশনের প্রকল্প পরিচালক পারভেজ মনন আশরাফ
বলেন, ২১ ফেব্রুয়ারি সাবমেরিন কেব্ল উদ্বোধন বলতে আসলে কনসোর্টিয়াম পর্যায়ে
কেব্লটি চালু করা হয়েছে। তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এর উদ্বোধন
করা হয়। সেখানে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে বিএসসিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক
(এমডি) মনোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

তাহলে ১৬ জানুয়ারি হনলুলুতে কোন সাবমেরিন কেব্ল উদ্বোধন করা হয়েছে, এ প্রশ্নের
জবাবে পারভেজ মনন আশরাফ বলেন, কনসোর্টিয়ামগতভাবে কেব্লটির প্রচারণার জন্য
বিভিন্ন ধারাবাহিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তার একটি হলো হনলুলুর অনুষ্ঠান। আর ২১
ফেব্রুয়ারি ইস্তাম্বুলে কনসোর্টিয়ামের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর বৈঠকের মাধ্যমে সব
ল্যান্ডিং স্টেশন আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সময় পাওয়ার পর
জাতীয়ভাবে এর বাণিজ্যিক কার্যক্রম উদ্বোধন করা হবে।

এসইএ-এমই-ডব্লিউই ৫ কনসোর্টিয়ামের ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখা যায়, ১৬ জানুয়ারি
হাওয়াইয়ের হনলুলুতে কেব্লটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। তবে বিএসসিসিএলের
দাবি অনুযায়ী ২১ ফেব্রুয়ারি কেব্ল উদ্বোধনের কোনো তথ্য কনসোর্টিয়ামের
ওয়েবসাইটে নেই।

এ ছাড়া যে সরকারি আদেশে (জিও) বিএসসিসিএলের এমডি মনোয়ার হোসেন ইস্তাম্বুলে
গেছেন, তাতে কনসোর্টিয়ামের উচ্চপর্যায়ের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের বৈঠকের কথা বলা
হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংযোগ উদ্বোধন কিংবা বাংলাদেশের ল্যান্ডিং স্টেশন উদ্বোধনের
কোনো কথা জিওতে উল্লেখ নাই।

ব্যাকহোল লিংক স্থাপনের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিসের উদ্বোধন করা হচ্ছে, তা
জানতে চাইলে বিটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহফুজ উদ্দিন আহমদে কোনো মন্তব্য
করতে রাজি হননি।

তবে বিটিসিএলের জনসংযোগ বিভাগের পরিচালক মীর মো. মোরশেদ বলেন, যত দ্রুত
সম্ভব কাজটি শেষ করতে চেষ্টা চলছে।

টেলিযোগাযোগ বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান লার্ন এশিয়ার আবু সাইদ খান বলেন, পুরো
ব্যাপারটিই একটি ধাপ্পাবাজি ছাড়া আর কিছুই নয়। ব্যাকহোল ট্রান্সমিশন লিংক স্থাপন
ছাড়া সাবমেরিন কেব্ল উদ্বোধন অনেকটা সড়ক বা রেলপথ ছাড়াই সমুদ্রবন্দর উদ্বোধনের
মতো একটি বিষয়। এর মাধ্যমে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে।





Comment Disabled

Comments