পটুয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে সাপে কামড়ানোর ওষুধ নেই!

স্টাফ রিপোর্টার 3
পটুয়াখালী বার্তা, পটুয়াখালী

তারিখ: ২০১৭-০২-০৪ | সময়: ০৭:২৮:১১

বার্তা রিপোর্ট ॥ তানিয়া বেগম (২০) নামে এক গৃহবধূকে সাপে কামড়ালে যন্ত্রণায় কাতর হয়ে ৩১ জানুয়ারি মঙ্গলবার রাতে পটুয়াখালী ২৫০ শয্যার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু হাসপাতালে সাপে কামড়ানোর চিকিৎসার ওষুধ (অ্যান্টিভেনাম) শেষ হয়ে যাওয়ায় তাকে হাসপাতাল থেকে প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তানিয়া এখন সাপের কামড় খেয়ে হাসপাতালের শয্যায় যন্ত্রণায় ছটফট করছেন।
তানিয়ার বাড়ি পটুয়াখালীর সদর উপজেলার জৈনকাঠি ইউনিয়নের সেহাকাঠি গ্রামে। দুই বছর আগে একই গ্রামের আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে তানিয়ার বিয়ে হয়। আনোয়ার ঢাকাতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ছোট চাকরি করেন।
তানিয়া বলেন, সন্ধ্যার পর উঠানে কাজ করার সময় বা পায়ে সাপে কামড় দেওয়ার পর যন্ত্রনা শুরু হয়। চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে ওঝা ডেকে আনে। রাত ৮ টার দিকে স্থানীয়রা তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে।
মঙ্গলবার সকালে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডের মেঝেতে তানিয়া যন্ত্রণায় ছটফট করছেন। তানিয়া জানান, শুধু যন্ত্রণাই নয়, গলা শুকিয়ে যাচ্ছে এবং সারা শরীর ব্যাথায় অস্থির তিনি।
হাসপাতালে তানিয়ার মা আসমা বেগম জানান, ভালো করে ওঝা দেখানো যায়নি। এলাকার লোকজন বলে এই হাসপাতালে সাপের কামড়ের রোগির চিকিৎসা হয়। অনেকে ভালো হয়েছে। তাই মেয়েকে এখানে নিয়ে আসে লোকজন। কিন্তু এখন জানানো হয় হাসপাতালে ওষুধ নেই।
তিনি আরো জানান, সাপের কামড়ের ওষুধ এখন বাইরে থেকে সংগ্রহ করতে হলে আট হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ হবে। কিন্তু এত টাকা জোগার কমরার সামর্থ তাদের নেই বলে জানান আসমা বেগম।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, ২০১০ সাল থেকে পটুয়াখালী ২৫০ শয্যার হাসপাতালে সাপে কামড়ানো রোগিদের চেকিৎসা সেবা কর্যক্রম শুরু হয়। সাপে কামড়ানো রোগিদের জন্য উন্নত চিকিৎসা রয়েছে, তাই ঝাড়ফুকের জন্য সময় নষ্ট না করে দ্রুত হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার লক্ষ্যে মানুষের মধ্যে সচেতনতা আনতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়। এর মধ্যে হাসপাতালের চিকিৎসক, সেবিকা, মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী, জনপ্রতিনিধি ও গনমাধ্যমের কর্মীদের নিয়ে সাপের বিষ প্রতিষোধকে উন্নত ব্যবস্থাপনার উপর বৈজ্ঞানিক কর্মশালার আয়োজনসহ প্রতিটি উপজেলাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ‘আর নয় ভয়, ঔষধ করেছে সাপের বিষকে জয়’ এই শ্লোগান সম্বলিত পোষ্টারিং করা হয়।
সাপে কামড়ানো রোগির চিকিৎসা সেবায় দায়িত্বে থাকা ২৫০ শয্যা হাসপাতালের মেডিসিন ও ¯œায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এফ, এম আতিকুর রহমান জানান, ডিসেম্বর মাসে অ্যান্টিভেনাম শেষ হলে বিষয়টি সিএমএসডিতে (কেন্দ্রীয় ঔষাধাগার) জানানোর পর আরো ৩০ ব্যারেল অ্যান্টিভেনাম আসে। কিন্তু ১৫ দিনের মধ্যে তাও শেষ হয়ে যায়। এখন হাসপাতালে সাপে কামড়ানো রোগির চিকিৎসায় ব্যবহৃত অ্যান্টিভেনাম নেই।
এদিকে সাপে কামড়ানোর রোগি তানিয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তানিয়াকে এখন পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এছাড়া দেশের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সাপে কামড়ানোর ওষুধ অ্যান্টিভেনাম প্রস্তুত করছে। তানিয়াদের পক্ষে আট-দশ হাজার টাকা খরচ করা প্রায় অসম্ভব। তবে তানিয়ার চিকিৎসা বন্ধ হবে না। প্রয়োজনে তিনি নিজের ব্যাক্তিগত টাকা দিয়ে ওষুধ সংগ্রহ করে চিকিৎসা সেবা দিবেন বলে জানান চিকিৎসক আতিকুর রহমান।
তিনি আরো জানান, গত পাঁচ বছরে ৪০ জন সাপে কামড়ানো রোগি চিকিৎসা সেবা নিতে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এদের মধ্যে ছয় জনকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। বেশির ভাগ রোগি ওঝার কাছ থেকে ঝাড়ফুক নিয়ে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় শেষ সময়ে হাসপাতালে ছুটে আসে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ৮০ থেকে ১২০ প্রজাতির সাপ রয়েছে । এর মধ্যে কোবরা, কিং কোবরা, কেউট্যা, রাসেল ভাইবার এই চার প্রজাতির বিষধর সাপে কামড়ানো রোগি হাসপাতাল থেকে সেবা নিয়েছে। সাপে কাটা রোগিদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসা দিয়ে রোগিকে সুস্থ করা সম্ভব আর এর জন্য হাসপাতালে পর্যাপ্ত সাপের বিষ প্রতিষোধক অ্যান্টিভেনাম সরবরাহ থাকতে হবে বলেও জানান তিনি।
পটুয়াখালীর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের তত্বাবধায়ক চিকিৎসক মো. আবদুর রহিম বলেন, জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে সাপে কামড়ানোর ওষুধ অ্যান্টিভেনাম শেষ হয়েছে। হাসপাতালে ওষুধ সরবরাহের জন্য কেন্দ্রীয় ঔষাধাগারে যোগাযোগ করা হয়েছে।





Comment Disabled

Comments