সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে একসঙ্গে লড়তে চায় যুক্তরাষ্ট্র

স্টাফ রিপোর্টার 3
পটুয়াখালী বার্তা, পটুয়াখালী

তারিখ: ২০১৬-০৮-২৯ | সময়: ০৮:১৯:০১


ঢাকা অফিস ॥ সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন সফররত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। গতকাল সোমবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। অত্যন্ত সোহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলা বৈঠকে সন্ত্রাসসহ দু’দেশের পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় ও যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা হয়। পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের এ বিষয়ে ব্রিফ করেন। সাক্ষাতে জন কেরি বলেন, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আমাদের অনেক বিশেষজ্ঞ আছে। আমরা সহযোগিতা করতে চাই। বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র এক সঙ্গে লড়াই করবে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে। সন্ত্রাস বিষয়ে তথ্য আদান প্রদান এবং বাংলাদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করারও আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সন্ত্রাস বৈশ্বিক সমস্যা। আমরা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টি করছি, জনগণ আমাদের সহযোগিতা করছে। ধর্মীয় নেতারা জনমত গঠনে কাজ করছেন। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
সন্ত্রাস বিষয়ে তথ্য আদান-প্রদানের ওপর গুরুত্ব দিয়ে জন কেরিকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রযুক্তিতে অনেক উন্নত। সেজন্য আপনাদের কাছে অনেক তথ্য আসে। আমাদের সে তথ্য দিলে জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের ধরতে সুবিধে হবে। সন্ত্রাসীরা অস্ত্র-অর্থ কোথায় পায়? প্রধানমন্ত্রী এমন প্রশ্ন করলে জন কেরি বলেন, তাদের দখলে থাকা তেলক্ষেত্র থেকে তেল বিক্রি করে এবং ব্যাপক চাঁদাবাজি করে। সন্ত্রাসে যুক্ত হওয়া তরুণদের বিষয়ে হতাশা প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, অনেক বিত্তবান পরিবারের সন্তানরাও এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। এটা আশ্চর্য। তাদের সবকিছু থাকার পরও বাবা-মা ঠিক মতো সময় না দেওয়ায় তারা এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে জন কেরি বলেন, বাবা-মায়েরা ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর এখন ছেলেমেয়েরা প্রচুর সহিংসতাপূর্ণ ভিডিও গেমস্ খেলে। এসময় ’৭৫ এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর সপরিবারে মর্মান্তিকভাবে শাহাদত বরণের ঘটনা স্মরণ করেন শেখ হাসিনা। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফেরত দেওয়ার অনুরোধ করেন। এ সময় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা আপনার কষ্ট বুঝি। এ বিষয়টি পর্যালোচনার পর্যায়ে আছে। কেরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবন পরিদর্শন ও জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানানোর বিষয়টিও উল্লেখ করেন জন কেরি। সে অনুভূতি প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমি অভিভূত। প্রধানমন্ত্রী ধানমন্ডি ৩২ এর বঙ্গবন্ধু ভবনের ইতিহাস তুলে ধরেন। সন্ত্রাস ছাড়াও বিভিন্ন ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে জন কেরি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, স্বাস্থ্য, জ¦ালানিসহ অন্য অনেক ক্ষেত্রেই আমরা যৌথভাবে কাজ করতে পারি। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ আহ্বান করেন। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অস্ত্র ছাড়া সকল বাংলাদেশি পণ্যের ডিউটি ও কোটা ফ্রি প্রবেশের সুযোগ চান। দু’দেশের সর্ম্পকের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এখন চমৎকার সর্ম্পক বিদ্যমান। খাদ্যে স্বয়ংসর্ম্পূণতা অর্জনসহ বাংলাদেশের উন্নয়ন ও মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের প্রধান লক্ষ্য এ দেশকে উন্নত করা। বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রশংসা করে কেরি বলেন, উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দুর্দান্ত কাজ করছে। আর্থ-সামাজিক বিষয়সহ বিভিন্ন ইস্যুতে আমরা বাংলাদেশের অংশীদার হয়েছি। সাক্ষাৎকালে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর আর্ন্তজাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম জিয়াউদ্দিন, পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়াল, ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাটসহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।





Comment Disabled

Comments