পাওনা টাকা চাওয়ার চক্ষু তুলে নিল প্রভাবশালীরা

স্টাফ রিপোর্টার
পটুয়াখালী বার্তা, পটুয়াখালী

তারিখ: ২০১৬-০৭-২০ | সময়: ১৩:৫৩:৩৭

নিজস্ব সংবাদদাতা: গলাচিপার চরবিশ্বাস ইউনিয়নের চর আগস্তি গ্রামে মধ্যযুগীয় কায়দায় গত রোববার নৃশংসভাবে শহিদুল আকন নামের এক যুবকের চক্ষু উৎপাটন করেছে এলাকার প্রভাবশালীরা। ভয়ে শহিদুল গলাচিপা থানা পুলিশকে বিষয়টি না জানিয়ে পালিয়ে ঢাকার চক্ষু বিজ্ঞান ইন্সটিউটে চিকিৎসা নিচ্ছে। এ বিষয়ে শহিদুলের পরিবারের পক্ষ থেকে গলাচিপা থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি জানান।

স্থানীয় নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র জানায়, চরকাজল ইউনিয়নের দক্ষিন চরকাজল গ্রামের শহিদুল আকন বর্তমানে ভাড়ায় মোটর সাইকেল চালায়। দুই বছর আগে শহিদুল চরআগস্তি গ্রামে ইউসুফ ফরাজীর মেয়ে ময়নাকে (২০) বিয়ে করে। ওই সময়ে এলাকার মেম্বার দেলোয়ার আকনের তরমুজ ক্ষেতে শহিদুল দিন মজুরের কাজ করত। এতে তার বেশ কিছু টাকা পাওনা হয়। চরকাজলের মেম্বার মনির দফাদার সালিশ করে দেলোয়ার আকনকে ১৮ হাজার টাকা শহিদুলকে দিয়ে দিতে বলে। কিন্তু অনেক সময় পার হয়ে গেলেও দেলোয়ার আকন এ টাকা শহিদুলকে পরিশোধ করেনি। এ নিয়ে চরকাজল লঞ্চঘাটে দেলোয়ার আকন ও শহিদুলের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। এতে অপমানিত হয়ে মেম্বার দেলোয়ার আকনের নেতৃত্ব জোর করে স্ত্রী ময়নাকে তালাক দিতে বাধ্য করা হয় শহিদুলকে। গত রোববার শহিদুল মোটর সাইকেলে যাত্রী চর আগন্তি নোমোর স্লুইজ এলাকায় যায়। পূর্বপরিকল্পিতভাবে মেম্বার দেলোয়ার আকন, শাকু হাওলাদার, শহিদুল খাঁ, মতিন হাওলাদার, রুহুল খাঁ, লোকমান মৃধা, খলিল গাজী ও রাতুলের নেতৃত্বে শহিদুলকে জোর করে দিন দুপুরে টেনে হিচড়ে ট্রলারে তুলে নদীর মাঝে নিয়ে প্রচন্ড মারধর করা হয়। এরপর হাত-পা বেঁধে শহিদুলের চক্ষু তুলে দেয়া হয়। গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ আ: রাজ্জাক  মোল্লা জানান, এ ব্যাপারে অভিযুক্তদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।





Comment Disabled

Comments