রাঙ্গাবালীতে মাদক মামলায় কারাগারে বিদ্যালয় নৈশ প্রহরী কারণ দর্শানোর নোটিশ, তদন্ত কমিটি গঠন


পটুয়াখালী বার্তা, পটুয়াখালী

তারিখ: ২০১৮-০৯-২৫ | সময়: ০৮:০৯:০০

রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:মাদক মামলার আসামি হয়ে কারাগারে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলা সদরের রাঙ্গাবালী মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নৈশ প্রহরী শাখাওয়াত হোসেন। এতে ওই বিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুন্ন হওয়ায় শাখাওয়াতকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেছেন, বিধি অনুযায়ী কোন মামলায় শিক্ষক কিংবা কর্মচারী কারাগারে থাকলে বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদ তাকে সাময়িক বরখাস্ত করতে হবে।
গত ১৩ সেপ্টেম্বর উপজেলার কোড়ালিয়া লঞ্চঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে এক হাজার পিস ইয়াবাসহ দুইজনকে আটক করে পুলিশ। ওইদিনই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আটককৃত দুইজনসহ পাঁচজনকে আসামি করে একটি মামলা (মামলা নং-০৭) করা হয়। ওই মামলায় আটককৃতদের পলাতক সহযোগি হিসেবে রাঙ্গাবালী মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নৈশ প্রহরী শাখাওয়াত হোসেনকে ৫ নম্বর আসামি করা হয়েছিল। পরে ১৮ সেপ্টেম্বর শাখাওয়াত আদালতে হাজির হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিনের আবেদন করলে বিচারক তা মঞ্জুর না করে তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন। রাঙ্গাবালী থানার ওসি মিলন কৃষ্ণ মিত্র বলেন, ‘এক হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার মামলায় আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে পলাতক সহযোগি হিসেবে শাখাওয়াতসহ কয়েকজনের নাম পরিচয় জানা যায়। পরে তাদেরকে আসামি করে মামলা করা হয়।’
এদিকে মাদক মামলার আসামি হওয়ায় বিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে মর্মে কারাগারে প্রেরণের দিন (১৮ সেপ্টেম্বর) নৈশ প্রহরী শাখাওয়াতকে কারণ দর্শানোর নোটিশ করা হয়। প্রধান শিক্ষক আব্দুল মালেকের স্বাক্ষরিত ওই নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ‘আপনার বিরুদ্ধে কেন বিভাগীয় শাস্তি মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তা আগামী ৭ দিনের মধ্যে আপনি অথবা আপনার মনোনিত ব্যক্তিকে দিয়ে লিখিত কিংবা স্ব-শরীরে উপস্থিত হয়ে কারণ দর্শানোর জন্য বলা হয়।’ একইসঙ্গে ওই বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক মুজিবুর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটিকে চিঠি পাওয়ার তিন কার্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার অনুরোধ করা হয়।
রাঙ্গাবালী মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মালেক বলেন, ‘শাখাওয়াত মাদক মামলার আসামি হওয়ায় বিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে। একারণে ম্যানেজিং কমিটির (পরিচালনা পর্ষদ) মিটিং ডেকে শাখাওয়াতকে শোকজ করা হয়। সন্তোষজনক জবাব পাওয়া না গেলে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হবে। এছাড়াও আমরা একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করেছি। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ ওই বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও রাঙ্গাবালী ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুজ্জামান মামুন বলেন, ‘আমি এলাকার বাহিরে। ঘটনাটি শুনেছি। তাকে শোকজ করা হয়েছে।’
এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোকলেছুর রহমান বলেন, ‘একজন শিক্ষক কিংবা কর্মচারী জেল হাজতে থাকলে কর্তৃপক্ষ তাকে সাময়িক বরখাস্ত করতে হবে। এ ব্যবস্থা নিবে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি। তবে সে জীবন ধারণ ভাতা পাবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘নৈশ প্রহরী শাখাওয়াত জেল হাজতে আছে, আমি ঘটনাটি শুনছি। এ ক্ষেত্রে ম্যানেজিং কমিটি তাকে সাময়িক বরখাস্ত না করে উপায় নেই। তানাহলে কর্তৃপক্ষ দোষী সাব্যস্ত হবে। জেল হাজতে যাওয়ার আগে শাখাওয়াতকে শোকজ করা হয়েছে এবং তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এখন যেকোন সময় মিটিং ডেকে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করবে কর্তৃপক্ষ।’





Comment Disabled

Comments