রোজা যেন অনুষ্ঠানসর্বস্ব না হয়

সিনিয়র সাব এডিটর
পটুয়াখালী বার্তা, পটুয়াখালী

তারিখ: ২০১৮-০৫-১৯ | সময়: ১২:২৬:৫৭

ইসলাম অনুষ্ঠানসর্বস্ব ধর্ম নয়। ইসলামে বিশেষ অঙ্গভঙ্গি, তীর্থ ভ্রমণ কিংবা চিত্তবিনোদনমূলক কাজকর্ম ইবাদত হিসেবে গণ্য হয় না। মানবজীবনের সব ক্ষেত্রেই ইসলামের বিধান ও নির্দেশনা আছে। সেসব বিধান উপেক্ষা করে নির্দিষ্ট কিছু আচার-অনুষ্ঠান পালন করলেই ঈমানের দাবি পূর্ণ হয় না। মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদাররা! তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামে প্রবেশ করো, আর শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ কোরো না। নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২০৮) অনেকেই মনে করে, রোজা মানেই সাহরি ও ইফতারের আনুষ্ঠানিকতা। অথচ প্রকৃত সত্য হলো, সাহরি ও ইফতারের মধ্যেই রোজার তাত্পর্য সীমাবদ্ধ নয়। রোজার অন্যতম উদ্দেশ্য রোজাদারের জীবনকে পবিত্র, পরিশীলিত ও সংযত রাখা। মহান আল্লাহ এ মাসের প্রতিটি মুহূর্তকে নির্ধারণ করেছেন সংযম সাধনার জন্য। রমজান সংযমী হওয়ার শিক্ষা দেয়। শুধু পানাহার থেকে বিরত থাকাই সিয়াম সাধনার মূল উদ্দেশ্য নয়। পানাহার থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি নিজের মুখ ও জিহ্বা সংযত রাখতে হবে। পবিত্র এ মাসে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি জাগতিক সব বিষয়ে সংযত জীবনাচারের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘বহু রোজাদার এমন আছে, রোজার বিনিময়ে সে উপবাস থাকা ছাড়া আর কিছুই লাভ করতে পারে না।’ সুতরাং রোজাদার ব্যক্তি মিথ্যা কথা বললে, অন্যের দোষ চর্চা করলে, হারাম মাল ভক্ষণ করলে, পাপ কাজ করলে, রোজার শক্তি ও বরকত নষ্ট হয়ে যায়। কাজেই রোজার বরকত অক্ষুণ্ন রাখতে হলে জীবনের সব ক্ষেত্রে সংযমী হতে হবে।

আমাদের সমাজে সংযমী রোজাদারের বড়ই অভাব। শুধু উপবাস বা পেটের সংযমের নামই রোজা নয়। এর পাশাপাশি দৃষ্টির সংযম, জিহ্বার সংযম, হাত-পায়ের সংযম, যৌনাঙ্গের সংযম, প্রবৃত্তির সংযম ও অন্তরের সংযম রয়েছে। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রোজা অবস্থায় মিথ্যাচার ও মন্দ কাজ ত্যাগ করে না, তার পানাহার ত্যাগের আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।’ (বুখারি, হাদিস : ১৯০৩)

সাহরি ও ইফতারে অধিক পরিমাণে ভোজন না করা উচিত। রোজার আসল উদ্দেশ্য মানুষকে সংযমী করা, মানুষের ভেতরকার পশুশক্তিকে নিস্তেজ করা, তার আত্মার শক্তি সতেজ করা এবং আত্মিক বিশুদ্ধতা অর্জন করা। অথচ অধিক খাদ্য গ্রহণ করার ফলে দেহ চাঙ্গা হয়, পশুশক্তি জোরদার হয় এবং আত্মার শক্তি দুর্বল হয়ে যায়। তবে ইবাদতের জন্য শক্তি সঞ্চয়ের তাগিদে ভালো মানের বা বেশি পরিমাণ খাবার গ্রহণ নিন্দনীয় নয়। প্রখ্যাত তাবেয়ি নাফে (রহ.) বর্ণনা করেন, রমজান এলে কিংবা সফরে বের হলে আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.)-এর খাবার গোশত ছাড়া হতো না। অর্থাত্ স্বাস্থ্য রক্ষা ও ইবাদতের জন্য শক্তি সঞ্চয়ের উদ্দেশ্যে তিনি রমজানে ভালো খাবার গ্রহণ করতেন। (আল আদাবুশ শারইয়্যাহ, ইবনে মুফলিহ : ৩/৬৩)

লেখক : সিইও, সেন্টার ফর ইসলামিক ইকোনমিকস বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা।





Comment Disabled

Comments