১৫ কোটি টাকা নিয়ে উধাও টাচ আর্ন

সিনিয়র সাব এডিটর
পটুয়াখালী বার্তা, পটুয়াখালী

তারিখ: ২০১৮-০৫-১৮ | সময়: ২৩:৫৮:৪৬

সিরাজগঞ্জে আউট সোর্সিং ব্যবসার কথা বলে টাচ আর্ন নামে একটি ওয়েবসাইটের পাঁচ উদ্যোক্তা গ্রাহকদের প্রায় ১৫ কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়েছে। এর সঙ্গে জড়িত প্রায় ২৩ হাজার গ্রাহক প্রতারিত হয়েছে। এনায়েতপুর থানার গোপিনাথপুর গ্রামের কলেজছাত্র রবিউল ইসলাম, দেলোয়ার হোসেন, দশম শ্রেণির ছাত্র শামীম হোসেন, তাঁত শ্রমিক ইব্রাহীম হোসেন, খোকশাবাড়ী গ্রামের বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ছাত্র শরিফুল ইসলাম, রূপসী গ্রামের আব্দুল কাদের, শিবপুরের শাহীন, গোপালপুরের আলী আকবার, বেলকুচির তামাইয়ের রনি তালুকদার জানান, তাঁদের বলা হয়েছিল ওয়েবসাইটে (.িঃড়ঁপযবধত্হ.ড়ত্ম) ছয় হাজার ৪০০ টাকায় আইডি খুলে সাত-আট মিনিট অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলে কিছু বিজ্ঞাপনচিত্র দেখলেই দৈনিক দুই ডলার করে আইডিতে জমা হবে।

আর এভাবে তা ২৫ ডলারে পরিণত হলে এর সমপরিমাণ টাকা তোলা যাবে। প্রথম দিকে লেনদেন চললেও হঠাৎ করে গত ৯ মে তা বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ২৩ হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া টাকা নিয়ে চম্পট দেয় ওয়েবসাইটটির ছয়জন অ্যাডমিন।

সিরাজগঞ্জে প্রতারিত হওয়া গ্রাহকরা গতকাল এনায়েতপুর ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় চত্বরে পাওনা টাকা ফেরত ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে একটি সমাবেশ করে। সমাবেশে এনায়েতপুর, বেলকুচি, সিরাজগঞ্জ সদর থানার দুই শতাধিক ছাত্র-শিক্ষক অংশ নেন। তাঁরা অভিযোগ করেন, এনায়েতপুরে অবস্থিত খাজা ইউনুছ আলী বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের ছাত্র বেলকুচির মিটুয়ানী গ্রামের শাহাবুদ্দিনের ছেলে আব্দুল আলীম তীব্র (২৩), একই বিভাগে অধ্যয়নরত একই গ্রামের বেলাল মেকারের ছেলে সুজন রেজা (২৪), তফাজ্জল হোসেনের ছেলে তোফায়েল হোসেন (২২), মোবারক হোসেন (২২) এবং উল্লাপাড়ার ইমরান শেখ (২৮) মিলে ওয়েবসাইটি চালাত। তারা কৌশলে ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে আইডি খুলে দেয়। ওই টাকায় কথিত সিঙ্গাপুরি ওয়েবসাইটে আইডি করলে মাসে সামান্য কাজ করে কমপক্ষে তিন হাজার ৯০০ টাকা আয় করা সম্ভব। কয়েক মাস তা যথানিয়মে চলে। বিষয়টি পুরো জেলা তথা দেশজুড়ে তাদের অর্ধশতাধিক সহযোগীর মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। গ্রাহক বেড়ে তা প্রায় ২৩ হাজারে পরিণত হয়। এনায়েতপুর থেকে পরিচালিত ওয়েবসাইটি সরলপ্রাণ গ্রাহকের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয় প্রায় ২০ কোটি টাকা। হঠাৎ করে গত ৯ মে গ্রাহকদের সঙ্গে কোনো কথা না বলে আলীম, সুজন রেজা, তোফায়েল, মোবারক, ইমরান ও তাদের সহযোগীরা পালিয়ে যায়।

এদের সহযোগী খাজা ইউনুছ আলী বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের শিক্ষক তাহেরুল আলম, বিবিএর ছাত্র বেলকুচির সরাতৈল গ্রামের কামাল হোসেন, এনায়েতপুর থানার রূপসী গ্রামের রুবেল হোসেন, আলতাফ মাস্টারের ছেলে আসিফ হোসেন, আতিক হোসেন, ইমরান হোসেন, এনায়েতপুর গ্রামের ব্লক জহুরুলের ছেলে রিমন হোসেন, তামাইয়ের আলামিন হোসেন, বেলকুচির সুবর্ণসাড়ার রেজা, মিটুয়ানীর ফিরোজ হোসেন, বেতিলের আব্দুস ছালাম, ব্রাহ্মণগ্রামের মোজাম্মেল হোসেনের ছেলে রাকিব হোসেন, একই বিভাগের ছাত্রী মারিয়া খাতুন, বিবিএর ছাত্রী বিতু। এরা সবাই খাজা ইউনুছ আলী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ছিল। এ ওয়েবসাইটের অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে নিয়োজিত থেকে হাজার হাজার গ্রাহক সৃষ্টিতে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিল। এরা সবাই এখন গা ঢাকা দিয়েছে।

ভুক্তভোগী এনায়েতপুর থানার ভাঙ্গাবাড়ী গ্রামের শাহীন খন্দকার, ব্রাহ্মণগ্রামের আলামিন, খোকশাবাড়ীর শরিফুল ইসলাম, বেলকুচির বিশ্বাসবাড়ির সিফাত হোসেন, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার পোড়াবাড়ী গ্রামের আমানুল্লাহ জায়ের জানান, কৌশলী কথায় তাঁরা সরল মনে বিশ্বাস করে প্রতারিত হয়েছেন। ওয়েবসাইটটি তাদেরই বানানো। তারা নিজেরাই পরিচালনা করে আইডি খোলা বাবদ গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে পালিয়েছে। তাদের বাড়িতে গিয়েও কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না। এ অবস্থায় সরকারের কাছে তারা বিনিয়োগের টাকা উদ্ধারে সাহায্য ও দোষী সবাইকে আটক করে শাস্তির আওতায় আনার আহ্বান জানান।

অভিযুক্ত বেশির ভাগের বাড়ি মিটুয়ানী গ্রামে। সরেজমিনে মোবারক হোসেন এবং আব্দুল আলীমের বাড়িতে গেলে তাদের পরিবারসহ কাউকে পাওয়া যায়নি। সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি এমদাদুল হক মিলন বলেন, ‘আউট সোর্সিং ব্যবসার প্রতারকচক্রটি শিবিরের সক্রিয় সদস্য। এরা মানুষ পটাতে প্রশিক্ষিত। সেই অভিজ্ঞতায় সরলপ্রাণ ছাত্রদের কাছ থেকে কৌশলে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। আমরা তাদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।’

জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এভাবে প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা চক্রটি হাতিয়ে নেবে, তা কেউ কখনো কল্পনা করেনি। এদের কঠিন শাস্তি হওয়া উচিত।’

সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, ‘আমরা বিষয়টি সম্পর্কে অতটা জানি না। তবে কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেব।’





Comment Disabled

Comments